
“যারা জীবন ভর রাখছে রোজা,নিত্য উপবাসী,
সেই গরীব ইয়াতীম মিসকিনে দে যা কিছু মুফিদ,”
“তোরে মারল ছুঁড়ে জীবন জুড়ে ইঁট পাথর যারা,
সেই পাথর দিয়ে তোলরে গড়ে প্রেমেরই মসজিদ” (নজরুল রমজান উপলক্ষ্যে ),
এখানে নজরুল যে আরবী ফার্সি শব্দ গুলি ব্যবহার করেছেন তার অর্থগুলি দিলাম, ইয়াতীম( অনাথ) মিসকিন (অসহায় ) মুফিদ,”(সৌভাগ্যবান দের দান), রমজান (আত্মশুদ্ধি ও আত্মদহন )
আর মাত্র কিছু দিন পরেই এসে যাবে মাহে রমজান তারপর আকাশে উঠবে এক ফালি ঈদের চাঁদ।কোলে সন্তান নিয়ে ছাদে উঠে মা দেখাবে দেখো খোঁকা কি সুন্দর ঈদের চাঁদ উঠেছে ,কাল তোমাকে স্নান করিয়ে নোতুন জামা পড়িয়ে দাদুর সঙ্গে ঈদগাহে (খোলা মাঠ)পাঠাবো, নামাজ শুরু হয় প্রাতে,ইমাম নামাজ পড়ান,খোতবা(ভাষণ) শেষে প্রার্থনা হয় হাততুলে খোদার কাছে ক্ষমাভিক্ষা করে নিজকৃত পাপের জন্য পরিবারের জন্য পূর্ব পুরুষদের জন্য,আর অবশ্যই দেশের জন্য দশের জন্য কারণে কোরআন বলে দেশপ্রেম ঈমানের (ধর্মবিশ্বাস) অঙ্গ,(জাতি ধর্ম নির্বশেষে এবারের প্রার্থনা হবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জন্য মানুষ কে বাঁচাতে), মহানবী ঈদের দিন বেড়িয়ে পরতেন মা ফতেমার (কন্যা) তৈরী করা সুখাদ্য পোষাক ইত্যাদি নিয়ে দারিদ্র্যপীড়িত প্রতিবেশির বাড়িতে দিতে, নিকটেই ছিল কিছু দরিদ্র আরব খৃষ্টান কিছু দরিদ্র আরব ঈহুদী প্রতিবেশি পৌঁছে দিতেন তাদের ঘরেও নবী নিজেই বাড়ির সুখাদ্য আর নোতুন পোশাকগুলি, নবী নিজে দরিদ্র ছিলেন জানতেন গরীবদের জাত নেই, শিশুর মা বলবেন তার সন্তান কে ঈদগাহে যাও সেখানে দেখবে নামাজ শেষে কত মানুষের কোলাকুলি করতে করতে কান্না ভেজা গলায় বলবে আবার ঈদে যেন দেখা হয় ভাই, জানি অনেকের সঙ্গে আর দেখা হয় না পরের বছরে, তারপর ঘরে ফেরা, ফিরে এসে ঘরে ঘরে শুরু হয় বয়োজ্যেষ্ঠ দের সালাম প্রণামের পালা, ঈদগাহ থেকে ফিরে এসে পায়েস খেয়ে দাদু নিয়ে যাবে নাতির হাত ধরে দাদীর কবরস্থানে জিয়ারত (প্রদক্ষিন)করতে, কচি হাতে দাদীর সমাধিস্থলে মোনাজাত (প্রার্থনা ) করবে দাদীর জন্য দাদুর ভিজে চোখের সঙ্গে,
“ঐখানে মোর দাদীর কবর ডালিম গাছের তলে,
বিশটি বছর ভিজিয়ে রাখি দুই নয়নের জলে,”(জসিমউদ্দীন),
এরপরই শেষ হয়ে যাবে ঈদ বা ঈদ উল ফিতর দানের উৎসব খুশির উৎসব, এই উতসব তাই বাহুল্যবর্জিত অর্ধদিনেই শেষ, এখন ঈদ নিয়ে হিন্দু দের মতো মাহফিল গাণ বাজনা চাঁদা আর রেস্টুরেন্ট গুলিতে সারা মাস ধরে সুখাদ্য না কুখাদ্য খাওয়ানোর প্রতিযোগিতায় মেতে উঠেছে সবাই। ঈদের শেষে তারপর আবার সংযমের শিক্ষা, ধৈর্যের শিক্ষা, বাক সংযমের শিক্ষা,হালাল রুজি (সতপথের রোজগার )খাওয়ার শিক্ষা সব ভুলে যাবে মানুষ। তবুও ঈদ আসে বারবার। জানিনা পৃথিবীতে এমন করে একটি উৎসব একটি ঈদ আনতে কোন সম্প্রদায়কে একমাস ধরে লড়াই করতে হয় নিজের সঙ্গে। এই রমজান দিয়ে যায় অনেক কিছু আবার নিয়েও যায় অনেক কিছু। বন্ধুবর পূর্ব বর্ধমানের মাড়ো গ্রামের সবুজ গোস্বামী জানালেন সম্বৎসর একদিন রোজদারদের ইফতার করান তিনি ও তার পরিবার, কোন কিছুর জন্য নয় অন্তরের ডাকে, একি কম কথা মানুষের পাশে থাকা।সব্যসাচীদা জানালেন তার এক মাসড়া গ্রামের নানীর কথা।এমণি কতমহাজন চোখের আড়ালে রয়ে গেছেন রমজানের সহযোগী।
মনে পরে এক সুখস্মৃতি কীর্ণাহারে ব্যাঙ্কে আমার সঙ্গে দুজন মেধাবী মুসলিম অফিসার যোগ দেন ইঞ্জিনিয়ারিং কাজ ছেড়ে ব্যাঙ্কের কাজে,রমজান মাসে দুজনই রোজা রেখেছেন,আমি কাজ থেকে তাদের ছেড়ে দিতাম একটু আগেই ইফতারের জন্য, প্রচন্ড গ্রীষ্ণে তারা যখন হেঁটে ফিরছেন নিজেদের মেসে তিন মাইল দূরে ব্রাহ্মণ পাড়ার ভিতর দিয়ে জানতে পেরে তাদের বাড়িতে নিয়ে যান জুবুটিয়ার এক ব্রাহ্মণ দাদা ও সুহৃদ প্রয়াত করুনাময় ব্রহ্ম মুখোপাধ্যায় বা করুদা নিজের বাড়িতে রোজা খোলাতে।একদিন আমিও ডাক পেলাম গিয়ে দেখি বালতীতে ওজুর জল প্রক্ষালনের জন্য,রাখা আছে গামছাখানা,বাড়ীর গাছের লেবুর সরবত, ফলমূল ইত্যাদি রুচিশীল কাঁসার থালায় ঠিক ঠাক রাখা ইফতারের জন্য, বন্দোবস্ত ঠাকুরঘরে বাঘছালের আসন পাতা প্রেমাবতার কৃষ্ণের সামনে পাশে রাধা।সেদিন এক অনিবর্চনীয় তৃপ্তি নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি যা আজও ভূলিনি।
যেখানে থাকি সেখানে প্রতিবেশিনী কন্যাসমা একটি বাঙ্গালী উচ্চ ব্রাহ্মণ পরিবার থাকেন, সেই কন্যা তার মা ও আমার খুব প্রিয় জামাই সে তামিল ব্রাহ্মণ ছেলে দুবাই থেকে ফোন করে খবর নিল এই দুঃসময়ে, খবর নিল কেমন আছি আমরা,আর সঙ্গে বারবার একটি কথা, Uncle are you fasting in this Ramadan,Are you?,জানি তিনহাজার কোটির স্বর্ণ ব্যবসায়ী তারা গোটা পরিবার নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে রমজান প্রতি বৎসর আর নিয়মিত দেয় জাকাত।
জীবনের পঁচাত্তর রমজান পেরিয়ে যাচ্ছে আর একটি দিন বাকী,আজ কি রমজান দেখছি ।আরবী রমজ্ ধাতু থেকে উৎপন্ন রমজান শব্দের অর্থ আত্মদহন নিজেকে পুড়িয়ে শুদ্ধকরণ, কাম ক্রোধ লোভ লালসা হিংসা দ্বেষ মন থেকে পুড়িয়ে ফেলা,বিনিময়ে অর্জন করতে হয় ধৈর্য্য, প্রতিবেশীদের ভালোবাসা সে যে ধর্মেরই হোক না কেন,কম কথা বলা বাকসংযম,মাতাপিতার প্রতি কর্তব্যবোধ জাগ্রত করা, কুঅভ্যাসগুলি ত্যাগ করা,এগুলি পালন না করে শুধু উপবাস করে দিলে রোজাই গৃহীত হয় না, বাকী রইল সারাবছরের রোজগার ও সঞ্চয় হিসাব করে 2.5% জাকাত হিসাবে দান করা,পৃথিবীর প্রথম ইনকাম ট্যাক্স আর ঈদে শেষ হয় মুসলমানদের ফিনান্সিয়াল ইয়ার , জাকাত থেকে সেই দান প্রথম যাবে শিক্ষায়, নবী নিরক্ষর ছিলেন, তিনি জানতেন শিক্ষার কি গুরুত্ব,তাই শিক্ষা প্রথম প্রায়োরিটি, নবী আরও বলতেন একজন জ্ঞানীর দোয়াতের কালি শত শহীদের রক্ত থেকেও পবিত্র, দরকার হলে চীনে যাও জ্ঞানার্জন করতে, কনফুসিয়াসের চীন তখন বিশ্বের আধুনিক জ্ঞ্যানক্ষেত্র, আশ্চর্যের কথা চীনে তখন ইসলাম নেই,বাকি দান করতে হবে দরিদ্রতম মানুষদেরকে জাত ধর্ম বিচার না করে,আর এসব কিছু অর্জন করতে হয় সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ভোরে সামান্য খেয়ে যাতে শরীর ভেঙে না পরে,বাকী সারাদিন উপবাস করে সুর্যাস্ত পযর্ন্ত।তারপর পরিশুদ্ধ হয়ে আবার নোতুন করে পথচলা। পৃথিবীতে এমন কোন ধর্ম নেই যেখানে উপবাস নেই।নবী তাই বলেছেন ইসলাম কোনো নতুন ধর্ম নয়, পৃথিবীতে যাকিছু চিরন্তন সত্য যা মানুষের কল্যান আনে তাই ধর্মীয় সত্য।তিনি সব সেই শাশ্বত ধর্মীয় সত্যকে গ্রহণযোগ্য করে ইসলামের মধ্যে নিয়ে নেন,রমজানের রোজা তাই পূর্বের নবী মুসা বা মোজেসের ঈহুদী দের প্রভাব থেকে একরকম এসেছে বলা যায়, ঈহুদীদেরও রোজা আছে নামাজ আছে আছে আজান,আছে হালাল, আছে কোরবানি আর অবশ্যই আছে শূকর খাওয়ার কঠোর নিষেধাজ্ঞা, ইসলাম পৃথিবীর এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বরদের (সর্বজাতির পথপ্রদর্শক) দেখানো পথকে সম্মানও করে। কোরআন শরীফ পাঠ করার আগে জগতের সকল ধর্মের এক লাখ চব্বিশ হাজার পয়গম্বর ( পথ প্রদর্শক) দের সালাম জানিয়ে মানুষ কি এমন করে রোজা পালন করে এখন? সারাদিন অভুক্ত থেকে ইফতারের বিরাট আয়োজন, নানান রকম ফলমূল, ঘরে তৈরী মুচমুচে জিলাপি, দইবড়া,লস্যি,লেবুর সরবত,হালুয়া মিষ্টান্ন থেকে ছোলার ঘুগনি, ভাজাভূজীর নিত্য নতুন আইটেম। ছোট বেলায় দাদুর সঙ্গে ইফতার করতে হতো, চন্চল বালক একদিন একটি বেদানা ও গোটা কলা হাতিয়ে নিয়ে বাইরে খেয়ে খোসা টা রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলাম, দাদা ইফতার শেষে মসজিদে নামাজ পড়তে যাবেন, চন্চল নাতির রাস্তায় ফেলে দেওয়া কলা ও বেদনার খোসা দেখে চারিদিকে তাকিয়ে নত হয়ে কুড়িয়ে নিয়ে বাড়ির সারকুড়ে (গারবেজ ) চুপি চুপি ফেলে দিয়ে আমাকে ডাকলেন বললেন ভাই আমাদের গ্রামের সবাই খুবই গরিব কলা ও বেদনা খাবার সামর্থ্য নাই , আমরা খাচ্ছি দেখে তাদের কষ্ট হবে, দেখলাম সত্যি তাই গরিব মানুষ তখন মাঠের কাঁকুড় ও কখনো শসা দিয়ে ইফতার করতেন, দাদু পরদিন সাতাশে রমজানের দিন বোলপুরের সত্য ফলওয়ালা কে অর্ডার দিয়ে কলা বেদনা ও তরমুজ আনিয়ে মসজিদে নামাজ পড়তে আসা রোজদার দিয়ে ইফতার করালেন।
নবী মাত্র কয়েকটি আরবি খেজুর আর কূপের জলপান করে রোজা খুলতেন, পরে খেতেন নিরামিষাশী খাবার,সামান্য যবের রুটি লাউয়ের ঝোল,উটের দুধ আর কখনও জুটলে তার প্রিয় ফল একটুকরো আমরুদ (পেয়ারা)।ইফতার এখন রাজনৈতিক নেতাদের মূল্যবান হাতিয়ার,মুসলমানদের ভোট হাতাতে টুপি লাগিয়ে ফেকু নেতাদের ইফতার পার্টিতে যোগদান, এবার হিন্দু ভোট হারাবার ভয়ে আর দেখা যাচ্ছেনা সব কেটে পরেছে,
শিক্ষার জন্য জাকাতের দান চলে যাচ্ছে শুধু ধর্মীয় মাদ্রাসায়, বেচারা গরীব ঘরের ছেলেরা যায় ভিক্ষার ঝুলি হাতে কালেকশনে, দূর্বল দৈহিক খাটুনি করতে অক্ষম অভাবী ঘরের ছেলেরা মাদ্রাসার ছাত্র হয় দুটি দান পেতে ও খাবারের আশায়।আদায়কারি মৌলভীদের ছোটাছুটি সংবৎসর সংসার চালানর খরচ জোগাড় করতে, উন্নাসিক মুসলমান ও সাম্প্রদায়িক হিন্দুরা ওদের দেখে বলে সব ইসলামের জঙ্গি হবে।
আর বক্তব্য বাড়িয়ে লাভ নেই ফিরে যাই কৈশোরে দেখা এক রমজানের ঘটনায়। ষাটের শেষ দিকেই কোলকাতায় পড়তে গেছি,সামনে ঈদের ছুটি।ঈদে বাড়ি না গেলে বিধবা দিদার কষ্ট। কলেজ ষ্ট্রীট থেকে যানজটে বাসটাস সব দাঁড়িয়ে।বুঝলাম হাঁটা ছাড়া গতি নাই গন্তব্য হাওড়া স্টেশন, অতএব হাঁটন যাত্রা।বড়বাজারে ভীড়ে ভীড়াক্কারে পথ চলা দায়। সামনে দীর্ঘদেহী এক ঝাঁকামুটে বিহারী পাঠান।তার দুটি কাঁধে দুটি করে চারটি ব্যাগে ঠাসা মালপত্র তার উপরে ঝাঁকায় মাল তুলতে তুলতে যাচ্ছে এক মোটাসোটা মাড়োয়ারি।আমার পথ আটকে যাচ্ছে বারবার।কিন্ত কিছু বলতে পারছি না দেখলাম মুটের পা টলছে মাড়োয়ারি তবুও টুকটাক মাল চাপিয়ে যায়, সামনে হাওড়াব্রীজ তখনও ব্রেবোর্ণ রোডের উপর উড়ালপুল হয় নি,যানবাহন সারদিয়ে দাঁড়িয়ে, পুলিশ ডান্ডা উঁচিয়ে কাউকে এগোতে কাউকে পিছিয়ে যেতে বলছে, ক্রসিংগুলোতে বেশ ঠেলাঠেলি যা ভেবেছিলাম তাই হলো ঠেলাঠেলিতে মুটে হুড়মুড়িয়ে পড়ে গেল মালপত্র ছিটকে দিয়ে।
শুরু হল মাড়োয়ারির অশ্রাব্য গাল,লজ্জায় কষ্টের যন্ত্রণায় মুটের মুখ লাল, সে কেবলই সহ্য করে যাচ্ছে কিছু বলছে না,মাড়োয়ারি সমানে গালিগালাজ করে যাচ্ছে, লোকজন মালপত্রের উপর দিয়ে টপকে টপকে যাচ্ছে, মুটের সঙ্গে আমিও হাত লাগিয়ে কোনরকম তার ঝাঁকাটি তুলে দিলাম,মাড়োয়ারি আবার বাকী মালগুলি তুলে দিল।মাড়োয়ারির বাক্যবান তখনও বন্ধ হয় নি। ট্রাফিক গাড়ি আটকে দিয়ে পথচারীদের পার করে দিতে লাগল,আমরা ব্রেবোর্ণ ক্রসিং ক্রস করে ব্রীজের দিকেই যাচ্ছি, মাড়োয়ারি সমানে বকে যাচ্ছে মেরা কিতনে মাল বরবাদ কর দিয়া তুমনে। বিহারী মুটে এবার বিনীতভাবে বলল,”হম রোজদার হ্যায় সাব মেরা বহুত গোলতি হুয়া, মুঝে মাফ কর দিজিয়ে সাব”। মুহুর্তে মাড়োয়ারি থমকে গিয়ে দাঁড়িয়ে পরল, তারপর বলল জাড়া রুখিয়ে।হাত বাড়িয়ে বলল, “মেরাভি গোলতি হুয়া ভাইসাব মুঝেভি মাফ কর দিজিয়ে”।
এরপরই মারোয়ারি মুটের দুকাঁধের দুটি ব্যাগ খুলে নিয়ে হাল্কা করে মাড়োয়ারি নিজের কাঁধে দিয়ে পাশাপাশি গল্প করতে করতে হাঁটা দিল হাওড়া ব্রীজের ফুটপাত ধরে। শত গালিগালাজ শুনেও ধৈর্যের পরীক্ষা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে এক রোজদার নিজের রোজা পালন করে গেল,রোজার একটি প্রধান শর্তই হলো ধৈর্য ও বাকসংযম। অপরদিকে আর এক অমুসলিম বেরোজদার পরীক্ষা দিল সহমর্মিতা ও ক্ষমা প্রার্থনা করে। আমার চোখে ভেসে উঠলো আবহমান ভারতবর্ষের সহনশীলতা ও সহমর্মিতা। মনে হলো খোদা সেদিন দুজনেরই রমজান কবুল করে নিলেন। যারা এ দেশকে জানতে পারল না তারা হতভাগা আর যারা এ দেশকে বুঝতে পারল না তারা নিশ্চিত পাপী।
লেখক পরিচিতি,
নাম: আহসান কামাল
লেখক রিটায়ার্ড ব্যাঙ্ক ম্যানেজার, বর্তমান পেশা লেখালেখি।
বিষয়: সামাজিক ইতিহাস ও পটপরিবর্তন।
ঠিকানা: প্রান্তিক, শান্তিনিকেতন
ফোন ৮৬৭০০৪১৭৯৪
