Article

বর্তমান যুব সমস্যা: ডিপ্রেশন ও মুক্তির উপায়

100views

বিজ্ঞানের বদৌলতে আবিষ্কৃত হয়েছে শত শত ভোগবিলাসের উপকরন। মানুষ আজ ছুটে চলেছে গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে, পৌঁছে গেছে চাঁদে। সীমাহীন ভোগবিলাস ও শারীরিক সুখের নেশায় মত্ত মানুষ আজ ক্রমেই দূরে সরে যাচ্ছে নিজ পরিবার ও আত্মীয় স্বজনদের কাছ থেকে। ফলে তরুণ তরুণীদের মধ্যে বিরাজ করছে এক হিমশীতল একাকীত্ব। এই নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব এর বিষাক্ত ছোবলে দংশিত হয়ে মানুষ আজ সুখ দুঃখ ভাগ করে নিতে না পারার দরুন অল্পতেই ভেঙ্গে পরে, হতাশগ্রস্ত হয়। এই হতাশাই দীর্ঘদিন পুঞ্জিভূত হতে শুরু করলেই মানুষ আবষাদগ্রস্ত তথ্য ডিপ্রেশনে পতিত হয়। নৈরাশ্য ও অসহায়ত্তের গাঢ় আন্ধকার নেমে আসে জীবনে। সারা বিশ্বেই ডিপ্রেশন বা বিষন্নতা এক ভয়াবহ ব্যাধি বলে স্বীকৃত, যা প্রতিদিন তরুণদের মধ্যে সদা সম্প্রসারমান। তাই এই মানসিক রোগ থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রথমে বুঝতে হবে বিষণ্ণতা কি? কেন হয়? বিষন্নতার লক্ষণগুলো কি? সর্বোপরি ডিপ্রেশন সংক্রান্ত ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি পর্যালোচনা করলে মুক্তি মিলে খুব সহজে।

ডিপ্রেশন কী?

বর্তমান সমাজে বহুল প্রচলিত একটি শব্দ- ‘ডিপ্রেশন’, তবে এই শব্দটির ভুল ব্যবহারও হয়ে থাকে প্রচুর। অনেক সময় দুঃখবোধ (Sadness) ও বিষন্নতাকে (Depression) এক বলে মনে করা হয়। দুঃখবোধ হলো সাময়িক মন খারাপ যা অল্প কিছু সময় পরেই ঠিক হয়ে যায়। এর জন্য কোন চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। অন্যদিকে, ডিপ্রেশন দীর্ঘকালীন সমস্যা। যা থেকে মুক্তি পাবার জন্য উপযুক্ত চিকিৎসা ও পরামর্শের প্রয়োজন হয়ে থাকে।। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র দেওয়া নিয়মাবলী (গাইডলাইন) অনুযায়ী, অবসন্ন মন (‘লো মুড’), শক্তিহীনতা (‘লো এনার্জী’) এবং উৎসাহহীনতা (‘লো ইন্টারেস্ট’)-কে ডিপ্রেশনের নামে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। বিখ্যাত মনোবিজ্ঞানী অ্যারন বেক-এর তত্ত্ব অনুযায়ী, নিজের, পরিবেশের এবং ভবিষ্যত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা (নেগেটিভভিউ)-র সম্মিলিত প্রকাশই হল ডিপ্রেশন, যা রোজকার জীবনে তার মারাত্মক প্রভাবও ফেলে ‘Significant Socio-occupation al impairment)

ডিপ্রেশনের কারণ

জীবন ও ভবিষ্যতের সম্পর্কে আশাহীনতা ও বেকারত্ব, জন্ম দিচ্ছে হতাশার। গতিময় জীবনের স্রোতে ভেসে চলা আধুনিক মানুষ আজ বড় একা। নিঃসঙ্গ আধুনিক মানুষ ও তার মনের গহীনে জমতে থাকা হাতাশায় ঠেলে দিচ্ছে আবযাদের দিকে। তবে অনেকের ক্ষেত্রেই কিছু কমন কারণ থাকে যার জন্য এ রোগের উৎপত্তি যেমন সামাজিক ও পারিবারিক নিরাপত্তাহীনতা, বাবা-মা, বন্ধু-বান্ধব বা অন্যান্য কাছের মানুষদের সাথে সম্পর্কহীনতা বা মতবিরোধ, কাছের মানুষের মৃত্যু, জীবনে কড় কোন পরিবর্তন তথা চাকরি হারালে, অবসরে গেলে, আয় কমে গেলে, জায়গা পরিবর্তন করলে, বিবাহ বিচ্ছেদ ও হারাম রিলেশনশিপ এর ব্রেকাপ, এমনকি, নতুন বিয়ে করলেও অনেকে ডিপ্রেশনের শিকার হয়। এছাড়াও মানসিক বা শারীরিকভাবে অবমাননার স্বীকার হলে, বড় ধরণের কোন রোগ থাকলে, পরিবারে কারো ডিপ্রেশন থাকলে তা অন্যদের উপর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ সেবনের ফলেও কেউ কেউ বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়। যেমন, ব্রণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত আইসোট্রেটিনিয়ন বা অ্যান্টিভাইরাল ‘ইন্টারফেরন-আলফা’, ও আন্টি ক্যান্সার জাতীয় ওষুধ সেবনেও অনেকে বিষন্নতায় আক্রান্ত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে মানুষ বিষন্নতায় ভুগে থাকে। ব্যক্তিভেদে বিষন্নতার কারণে পার্থক্য দেখা যায়।

ডিপ্রেশনের লক্ষণ

কোনও মানুষ ডিপ্রেশনে আক্রান্ত হয়েছে কিনা কতগুল লক্ষন তার আচরণে ফুটে উঠে। যেমন-

১) নিজের সৃজনশীলতার সাথে সম্পর্কিত কোনো কাজ, যেমন ছবি আঁকা, ছবি তোলা, গান গাওয়া, লেখালেখি, নাচ করা ইত্যাদি সব ধীরে ধীরে কমে যায় ও সেগুলো করার কোনো তাগিদ অনুভব করে না। সারাদিন শুয়ে-বসে থাকাকেই মনে হবে সবচেয়ে সহজ কাজ এবং এর বাইরে সকল কাজকেই বোঝা মনে হয়। এক সময় যে কাজে খুব আনন্দ প্রদান করতো ডিগ্রেসশড় হয়ে যাবার পর সে কাজেও কোন আগ্রহই খুঁজে পাওয়া যায় না। দীর্ঘদিন যাবৎ অনিদ্রায় ভুগতে থাকে, ফলে সহজেই ক্লান্ত ও আবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়ে, ও রেগুলার খাদ্যাভাসে পরিবর্তন দেখা দেয়। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভোজন করে (Atypical depression), নতুবা খাবারে অরুচি দেখা দেবে (Typ-ical depression)। এ ফলে ওজন দ্রুত বাড়বে বা কমতে থাকবে যা শরীরে বিভিন্ন জটিলতার সৃষ্টি করবে।

২) কারো অল্প হাসি বা আনন্দের প্রকাশেও যেন বিরক্ত লাগে তাদের। একটু পরপর রাগ হয়। সুখ-দুঃখের অনুভূতিকে চাপা দিয়ে তাদের সকল আবেগের বিকল্প হিসেবে তখন দেখা দেয় রাগ। অল্পতেই, হয়তো অকারণেই রেগে যায় আশেপাশের সবার ওপর। দূরত্ব সৃষ্টি হয় তাদের সাথে। তাৎক্ষণিক রাগের বহিঃপ্রকাশটা বেশ প্রবল হয়। কাউকে আঘাত করা বা জিনিসপত্র ভাংচুর পর্যন্তও গড়ায়।

৩) এছাড়া চিন্তা ভাবনায় অস্পষ্টতা, কাজে মনঃসংযোগহীনতা, অহেতুক ঝুঁকিপূর্ণ কার্য সম্পাদন ও সকল বিষয়ে নেতিবাচক চিন্তাধারা ডিপ্রেশনের প্রধান প্রধান লক্ষণ।

ডিপ্রেশন ও মস্তিস্কের প্রতিক্রিয়া

মানব মস্তিস্কের কাজ খুবি জটিল। আমাদের ভাল লাগা আনন্দ, হাসি, আশা ভরসা সব কিছু নিয়ন্ত্রিত হয় ব্রেনের mesolimbic pathway & rewaerd centre দ্বারা। ব্রেনের মধ্যে Serotonine Dopamine ও Nor epineph-rine উৎসেচক এর আধিক্য থাকলে ব্রেন ডিপ্রেসড হয় না, কিন্তু হতাশগ্রস্ত ব্যাক্তির ব্রেনে Mono amino oxi-dase A (MAO-A) Enzyme কার্যকারিতা বেড়ে যায়, যা পূর্বে উল্লেখিত এনজাইম গুলোর পরিমান কমিয়ে দেয় chemical reaction এর দরুন। ফলে ভাল লাগা, আনন্দের অনুভূতি গুল কমে যায়, ও মানুষ আবসাদ গ্রস্ত হয়ে পড়ে সহজে। ব্রেনের মধ্যে এই এনজাইম চেঞ্জের ধারনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিপ্রেশন ট্রিটমেন্টের কাজে লাগে। এটাই মানব মননে ডিপ্রেশন আগমনের সবথেকে নির্ভরযোগ্য তত্ত্ব।

ডিপ্রেশন প্রতিরোধের উপায়

মহান আল্লাহতায়ালা বলেন, “এমন কোন রোগ নেই যার শেফা আমি তৈরি করিনি।” সুতরাং ডিপ্রেশন নামক এই মানসিক ব্যাধির শেফা কোরআন ও হাদিস থেকেই খুজে নিতে হবে। গবেষণায় দেখা গেছে, ধর্মীয় বোধ ও বিশ্বাস উত্তেজনা মোকাবেলায় মানুষকে হেফাজত করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে। আধুনিক চিকিৎসাবিদরা মানসিক কষ্ট বা মর্মযাতনা দূর করার জন্য ধর্মীয় মূল্যবোধগুলোকে ব্যক্তি মনে দৃঢ়ভাবে স্থাপনের ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে আধ্যাত্মিকতার শক্তিশালী সম্পর্ক রয়েছে। আর ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচরণগুলোই প্রকৃত সুস্থতার কার্যকরী উপাদান।

মহান আল্লাহ সূরা বাকারার ১৫৬ নম্বর আয়াতে ইরশাদ করেন, ‘যারা আল্লাহর ওপর বিশ্বাসী তারা যেকোনো বিপদ আপদের সময় এই সত্য ও বাস্তবতার প্রতি মনোযোগ আকৃষ্ট করে বলে যে, আমরা আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।’ যাদের অন্তর ইমানের নূরে আলোকিত, তারা সমগ্র পৃথিবীতে সুন্দর, কল্যাণ আর ভালো ছাড়া অন্য কিছুই চোখে দেখেন না। তারা বিশ্বব্যবস্থাকে সবোত্তম ব্যবস্থা বলে মনে করেন। তারা মহাপ্রজ্ঞাবান সেই স্রষ্টা ও প্রতিপালক খোদার প্রার্থনা করেন যিনি এই বিশ্ব সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং যিনি সুন্দর ও কল্যাণ ছাড়া তার সৃষ্টিকূলের জন্য অন্য কোনো কিছুই পছন্দ করেন না। এক্ষেত্রে যদি কোনো কিছুতে ঘাটতি থাকে কিংবা জটিলতা থাকে তাহলে সেসব অসংগতি সহনীয় এবং সমাধানের পর্যায়ে পড়ে।’

জীবনে চলার পথে বিভিন্ন প্রাপ্তির বিষয়গুলো যেমন আনন্দে উদ্বেলিত করে, তেমনি কখনো কোন অপ্রাপ্তির বেদনায় বা লক্ষ্য অর্জনের ব্যর্থতায় হতাশা আমাদের গ্রাস করে নেয়। কিন্তু ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ তাআলা বলেন, “আল্লাহর অনুগ্রহ হতে নিরাশ হইয়ো না।”-সুরা যুমার, আয়াত: ৫৩। নবী করীম (সঃ) বলেছেন, কোনও ইমানদার ব্যক্তি কখনও হতাশ হয় না। এই হতাশা প্রসঙ্গে ইমাম ইবনুল কাইয়ুম (রঃ) বলেন, শয়তান অন্য কিছু তে এত খুশি হয় না, যখন হতাশগ্রস্ত কোন ইমানদার ব্যক্তির সন্ধান পান। কারন হতাশ আস্ত ব্যক্তি খুব সহজেই শয়তানের ওশ-ওয়াশার স্বীকার হয়।

ডুবানোর জীবনের কোনকিছুই স্থায়ী নয়, না সুখ না দুঃখও। ইসলামী জীবনদর্শনের মূলকথাই হচ্ছে, দুনিয়ার জীবন ক্ষণস্থায়ী। আখিরাতের তুলনায় আমাদের পৃথিবীর জীবনকাল মাত্র কয়েক সেকেন্ড। মুস্তাওরিদ ইবনে শাদ্দাদ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে এসেছে, তিনি বলেন, আমি রাসূল (সা.) কে বলতে শুনেছি-“আল্লাহর কসম! পরকালের তুলনায় দুনিয়ার উদাহরণ হলো যেমন তোমাদের কেউ সাগরের মধ্যে নিজের একটি আঙ্গুল বানোর পর লক্ষ্য করে দেখুক আঙ্গুল কি পরিমাণ পানি নিয়ে আসল।” মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৫৬। এই হাদীসে বুঝানো হয়েছে আঙ্গুলে উঠে আসা পানি এবং সাগরের পানি কম-বেশ হওয়ার ব্যাপারে যেমন, ইহকাল ও জান্নাতের তুলনা তেমন। ইমাম ইবনে কাসীর (রহ.) বলেন, “দুনিয়াটা মহান আল্লাহর নিকট নিতান্তই তুচ্ছ। তার প্রমাণ হলো, ঈমানদার মানুষ আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় হওয়া সত্ত্বেও তিনি তাকে কখনো অভুক্ত রাখেন। আর কাফিরকে অবিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তৃপ্তি সহকারে তার খাবারের ব্যবস্থা করেন।

একবার এক লোক ইমাম আহমাদ (রহ.)-এর সাক্ষাতে এসে বলল, ‘আমাকে কিছু নাসিহাহ (ওয়াজ) করুন।’ তিনি বললেন, (১) যদি তুমি বিশ্বাস করো যে, আল্লাহই তোমার রিযিকের দায়িত্ব নিয়েছেন, তাহলে রিযিকের জন্য এত দুশ্চিন্তা কীসের? (২) যদি দুনিয়া নশ্বরই হয়ে থাকে, তাহলে এখানে আত্মতৃপ্তি কেন?

(৩) যদি হিসাব-নিকাশ সত্যই হয়ে থাকে, তাহলে সম্পদ সঞ্চয়ের এত প্রবণতা কেন?

(৪) যদি সবকিছু আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে পূর্ব নির্ধারিত হয়ে থাকে, তাহলে এত ভয় আর শঙ্কা কেন?

তারপর লোকটি ইমাম আহমাদের কাছ থেকে বের হয়ে গেল এবং মনে মনে শপথ করল, সে সবসময় আল্লাহর নির্ধারিত তাকদীরের ওপর সন্তুষ্ট থাকবে। আল-মাদখাল, ৩/৩৫৭

বিপদ-আপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব হতে পারে, রহমতও হতে পারে। বিপদ আসার পর যদি গুনাহ বেড়ে যায়, আমল কমে যায়, তাহলে বুঝতে হবে যে এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আজাব। পক্ষান্তরে যদি বিপদ আসার পর আমল বেড়ে যায়, তাহলে বিপদ আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত। ইসলাম পরিপূর্ণ জীবন বিধান হওয়ার দরুন শুধু কিছু আশার বাণী শুনিয়ে ছেড়ে দেয়নি, হতাশগ্রস্ত জীবনের কোন পরিস্থিতি তে কি করনীয় তা সুস্পষ্ট দেখিয়ে দিয়েছেন।

কোরআন ও হাদিসের আলোকে দুশ্চিন্তা ও বিপদাপদে ঈমানদারের করণীয় সম্পর্কে বর্ণনা করা হলো-

১) নিয়মিত সালাত আদায়ের প্রতি যত্নবান হন: নামায হচ্ছে আল্লাহর সাহায্য লাভের সর্বপ্রথম ও প্রধান সবচেয়ে কার্যকরী মাধ্যম। আল্লাহ বলেন- “তোমরা ধৈর্য্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথেই রয়েছেন।” -সুরা বাকারা, আয়াত: ৪৫। এই ক্ষেত্রে সালাতুল হাজাত ভীষণ কার্যকরী। হাদিসে এসেছে “রাসুল (সা.) যখন কোনো সমস্যায় পড়তেন বা চিন্তাগ্রস্ত হতেন তখনই তিনি নামাযে দাঁড়িয়ে যেতেন।”-মুসনাদে আহমাদ: ৫/৩৮৮

[1/3] আল্লামা শানকিতি বলেন, ধৈর্য্যের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করা সুস্পষ্ট বিষয়। ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে এক সময় তার উপর আল্লাহর রহমত নেমে আসবে এবং সে সফলকাম হবে।

২) আল্লাহকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ভয় করা: দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্যের লাভের জন্য আল্লাহকে যথাসাধ্য ভয় করতে হবে। তাহলে আল্লাহ আমাদের জীবনের যাবতীয় সংকট নিরসন করে দেবেন। আল্লাহ বলেন- “আর যে কেউ আল্লাহর তাকওয়া অবলম্বন করে আল্লাহ তার জন্য (উত্তরণের) পথ করে দেবেন। এবং তিনি তাকে তার ধারণাতীত উৎস হতে দান করবেন রিযিক।”-সুরা তালাক, আয়াত: ২-৩

৩) তাকদীরের প্রতি বিশ্বাসঃ ঈমানের অন্যতম প্রধান শর্ত: তাকদিরের প্রতি আমাদের বিশ্বাস যতো বাড়বে, ঈমান বিশুদ্ধ হবে ও হতাশা ততো কমবে। ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, নবীজি (স.) বলেছেন “জেনে রেখো! পুরো উম্মত যদি তোমাকে সাহায্য করার জন্য একত্রিত হয়, তবে তারা ততটুকু করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্যে পূর্বেই লিখে রেখেছেন। আর যদি তারা কোন ক্ষতি করতেও একত্রিত হয়, তারা শুধু ততটুকু ক্ষতিই করতে পারবে, যতটুকু আল্লাহ তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। কলম উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং কিতাব শুকিয়ে গেছে।” -তিরমিযী, হাদিস নং : ২৫১৬; আহমাদ, হাদীস নং ২৬৬৯। তাকদিরের ওপর পূর্ণ আস্থাবান ব্যক্তিকে দুশ্চিন্তা কাবু করতে পারে না। এ বিষয়ে

পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আল্লাহ তোমাদের ক্লেশ দিলে তিনি ছাড়া তা মোচনকারী আর কেউ নেই। আর আল্লাহ যদি তোমার মঙ্গল চান, তাহলে তাঁর অনুগ্রহ রদ করার কেউ নেই…।’ (সুরা:ইউনুস, আয়াত: ১০৭)

৪) আল্লাহর উপর ভরসা করা: আল্লাহর ব্যাপারে সুধারণা পোষণ করুন। তাঁর ওপর ভরসা রাখুন। আশা রাখুন যে তিনি আপনাকে আপনার দুরবস্থা থেকে নাজাত দেবেন। ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যদি তোমরা আল্লাহর উপর যথাযথ ভরসা করতে তবে আল্লাহ তাআলা পাখির মত রিযিক দান করতেন। পাখি সকাল বেলায় ক্ষুধার্ত অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে যায় এবং সন্ধ্যায় উদরপূর্তি করে ফিরে আসে।” -মুসনাদে আহমাদ: ১/৩০, তিরমিয়ী: ২৩৪৪, ইবনে মাজাহঃ ৪১৬৪। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর যে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।’ (সুরা: তালাক, আয়াত: ৩) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন, ‘আমি সেরূপ, যেরূপ বান্দা আমার প্রতি ধারণা রাখে।’ (বুখারি, হাদিস: ৬৯০১)

৫) বেশী বেশী ইস্তেগফার করা: মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে বলেন, পৃথিবীর বুকে যাবতীয় বিপর্যায়, দুঃখ, ক্লেশ মানুষের নিজ কৃতকর্মের ফল। তাই আমরা যদি আল্লাহর নিকট বেশী বেশী ইস্তেগফার করি আমাদের যাবতীয় সমস্যা সমাধান করে দেবেন। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা চাও, তিনি তো মহাক্ষমাশীল। (ফলে) তিনি তোমাদের জন্য প্রচুর বৃষ্টিপাত করবেন, তোমাদের সমৃদ্ধ করবেন ধনসম্পদ ও সন্তান-সন্ততিতে।’ (সুরা: নুহ, আয়াত: ৭১)

আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন: যে লোক সবসময় গুনাহ মাফ চাইতে থাকে (আস্তাগফিরুল্লাহ পড়তে থাকে। আল্লাহ তাকে প্রতিটি সংকীর্ণতা অথবা কষ্টকর অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ করে দেন, প্রতিটি দুশ্চিন্তা থেকে তাকে মুক্ত করেন এবং তিনি তাকে এমন সব উৎস থেকে রিযক দেন যা সে কল্পনাও করতে পারে না।” আবু দাউদ, হাদিস নং: ১৫১৮; ইবনে মাযাহ, হাদিস নং: ৩৮১৯

৬) পরকালের বিপদের কথা স্মরণ করুন: দুনিয়ার বিপদ-আপদ আপনার জন্য পরকালের বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার কারণ হতে পারে। আর পরকালের বিভীষিকাময় পরিস্থিতির তুলনায় দুনিয়ার বিপদ-আপদ খুবই নগণ্য। মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, ‘যেদিন তারা তা প্রত্যক্ষ করবে, সেদিন তাদের মনে হবে, যেন তারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করেছে।’ (সুরা: নাজিআত, আয়াত: ৪৬)

৭) চিন্তা করুন ভিন্ন ভাবে: নিজের চেয়ে নিচের মানুষদের অবস্থার দিকে তাকান। ভাবুন, আল্লাহ আপনাকে তার থেকে ভালো রেখেছেন। মনোবিজ্ঞানীরাও ডিপ্রেশনের চিকিৎসা হিসেবে রোগীকে যেভাবে চিন্তা করার উপদেশ দিয়ে থাকেন, মহানবী (সা.) দেড় হাজার বছর আগেই চিকিৎসার এই পদ্ধতি প্রয়োগ করেছিলেন। হাদিসে বর্ণিত, খাব্বাব (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে অভিযোগ করলাম এ অবস্থায় যে তিনি কাবাঘরের ছায়ায় একটি চাদরে ঠেস দিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। আমরা বললাম, আপনি কি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে সাহায্য চাইবেন না? আপনি কি আমাদের জন্য দোয়া করবেন না? জবাবে তিনি বলেন, ‘তোমাদের জানা উচিত, তোমাদের আগের মুমিন লোকেদের এই অবস্থা ছিল যে একজন মানুষকে ধরে আনা হতো, তার জন্য গর্ত খুঁড়ে তাকে তার মধ্যে পুঁতে রাখা হতো। অতঃপর তার মাথার ওপর করাত চালিয়ে তাকে দুই খণ্ড করে দেওয়া হতো এবং দেহের গোশতের নিচে হাড় পর্যন্ত লোহার চিরুনি চালিয়ে শাস্তি দেওয়া হতো। কিন্তু এই কঠোর পরীক্ষা তাকে তার দ্বিন থেকে ফেরাতে পারত না। (বুখারি, হাদিস: ৩৬১৬)

৮. ধৈর্য ধারণ করুন: বিশ্বাস করুন যে কষ্টের পর স্বাচ্ছন্দ্য আসে। কঠিন অবস্থার পর সচ্ছলতা আসে। সুরা আল ইনশিরাহ এর মধ্যে ইরশাদ করেন, “নিশ্চয় কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে।” এছাড়া অন্যত্র পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘… নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে আছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ১৫৩)

৯. দরুদ শারীফ পাঠ চিন্তা মুক্তির মহা ওষুধ: হাদিসে এসেছে উবাই ইবন কাব (রা.) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল, আমি আপনার ওপর অধিক হারে দরুদ পাঠ করে থাকি। আমার সময়ের কতটুকু আপনার প্রতি দরুদ পাঠে ব্যয় করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, তোমার যতটুকু ইচ্ছা। আমি বললাম, এক-চতুর্থাংশ সময়? তিনি বলেন, তোমার ইচ্ছা। কিন্তু যদি আরো বাড়াও তবে ভালো। আমি বললাম, অর্ধেক সময়? তিনি বলেন, তোমার যা ইচ্ছা; তবে আরো বৃদ্ধি করলে তা-ও ভালো। আমি বললাম, দুই-তৃতীয়াংশ সময়? তিনি বলেন, তোমার ইচ্ছা: তবে আরো বাড়ালে তা-ও ভালো। আমি বললাম, আমার সবটুকু সময় আপনার ওপর দরুদ পাঠে লাগাব? তিনি বলেন, তাহলে তো তোমার চিন্তামুক্তির জন্য তা যথেষ্ট হয়ে যাবে আর তোমার গুনাহ মাফ করা হবে। (তিরমিজি, হাদিস: ২৪৫৭)

১০. দোয়া বিশ্বাসীদের হাতিয়ার: দুশ্চিন্তা ও মানসিক অস্থিরতা থেকে নাজাতের উদ্দেশ্যে হাদিসে বেশ কিছু দোয়া শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ওই দোয়াগুলো বেশি বেশি পাঠ করা মুমিনদের জন্য অরপরিহার্য। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আমি এমন একটি দোয়া সম্পর্কে অবগত আছি, কোনো বিপদগ্রস্ত লোক তা পাঠ করলে আল্লাহ তাআলা তার সেই বিপদ দূর করে দেন। সেটি হচ্ছে আমার ভাই ইউনুস (আ.)-এর দোয়া। দোয়াটি হলো-‘লা ইলাহা ইল্লা আনতা সুবহানাকা ইন্নি কুনতু মিনাজ জ্বলিমীন।’

অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি ছাড়া কোনো সত্য উপাস্য নেই; আমি তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করছি। নিঃসন্দেহে আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৫০৫)

চিন্তা ও পেরেশানির সময় রাসুলুল্লাহ (সা.) যে বিশেষ দোয়া পড়তেন-‘আল্লাহুম্মা ইন্নি আউযু বিকা মিনাল হাম্মি ওয়াল হাযানি, ওয়া আউযু বিকা মিনাল আজযি ওয়াল-কাসালি, ওয়া আউযু বিকা মিনাল বুখলি ওয়াল জুবনি, ওয়া আউযু বিকা মিন জ্বালা’য়িদ্দাইনি ওয়া গালাবাতির রিজাল।’

অর্থ: হে আল্লাহ! নিশ্চয়ই আমি আপনার আশ্রয় নিচ্ছি দুশ্চিন্তা ও দুঃখ থেকে, অপারগতা ও অলসতা থেকে, কৃপণতা ও ভীরুতা থেকে, ঋণের ভার ও মানুষদের দমন-পীড়ন থেকে। আনাস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) চিন্তাযুক্ত অবস্থায় এই দোয়া পড়তেন। (বুখারি, হাদিস: ২৮৯৩)

মহান আল্লাহ আমাদের উপরে উল্লেখিত আমল গুলো করার তাওফিক দান করুন।

১১. পরামর্শ করুন জ্ঞানীদের সাথে: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করুন। নির্ভরযোগ্য আলেমের সঙ্গে অভিমত গ্রহণ করুন। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি পরামর্শ কামনা করে সে অকৃতকার্য হয় না।’

এতক্ষন পর্যন্ত ডিপ্রেশনের ইসলামিক দৃষ্টিভঙ্গি ও আমল করার মাধ্যমে রোগ থেকে উত্তোরনের পথ আলোচনা করা হল। কিন্তু বস্তুবাদী মন, জড়বাদ ও ভোগবাদের পঙ্কিল স্রোতে যখন নিমজ্জিত হয়, তখন ওঠার বানীও কলবে প্রবেশ করতে হিমশিম খায়। ফলে রোগীকে নিয়ে ছুটতে হয় চিকিৎসার জন্য, যা শরিয়াহ এর পরিপন্থী নয়। হুজুর (সঃ) একদিকে যেমন সুরা ফাতেহ্য পাঠের মাধ্যমে শেফার কথা বলেছেন, তেমনি মধু, কালোজিরা, প্রকৃতি সেবনের মাধমে আরোগ্য লাভের কথা বলেছেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিপ্রেশনের প্রেজেন্টেশনের উপর ভিত্তি করে তিন ভাগে ভাগ করা হয় অল্প (মাইন্ড), মাঝারী (মডারেট), বা গভীর (সিভিয়ার) হতে পারে। সাধারণত ডিপ্রেশন যখন মাঝারি পর্যায়ে থাকে, কাউনসেলিং এর মাধ্যমে এর চিকিৎসা করা হয়। যখন সিভিয়ার পর্যায়ে পৌঁছায় তখন ওষুধের মাধ্যমে চিকিৎসার অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কাউন্সেলিং অর্থাৎ ১. রুটিনমাফিক চলা, ২. লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা, ৩. নিয়মিত ব্যায়াম করা ৪. সুষম খাদ্য গ্রহণ (খাবারে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এ্যাসিড এবং ফলিক এসিড থাকে সেসব খাবার ডিপ্রেশন কমাতে সহায়তা করে) ৫. অনিদ্রা দূর করা (প্রতিদিন ঠিক সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।) ৬. ইতিবাচক চিন্তা করা (‘আমিই বুঝি সবচেয়ে খারাপ, আমার মত দুঃখ কারো নেই, আমি সবার চেয়ে অসুস্থ, আমি ব্যর্থ”, এই নেগেটিভ চিন্তাগুলোকে মন থেকে দূর করে পজিটিভলি চিন্তা করার চেষ্টা করতে হবে) ৭. আনন্দদায়ক কাজের মধ্যে সময় কাটানো, প্রভৃতি বিষয়গুলো যখন একজন ডিপ্রেশনের রোগীর সম্মুখে পেশ করা হয়, তখন খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বোঝা যায় উপরে উল্লেখিত কোরআন হাদিসে বর্ণিত বিভিন্ন আদেশ নিষেধের বিষয়গুলিই প্রকারন্তরে তার করণীয় সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে। যেমন, কোনও ব্যক্তি যখন নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত সালাত খুশু খুজুর সহিত আদায় করে, তখন তার মধ্যে নিয়মানুবর্তিতার, টাইম ম্যানেজমেন্ট, ও মেডিটেশনের শিক্ষা এক সাথে রপ্ত করতে পারে। ফ্রি হ্যান্ড এক্সারসাইজ ও হয়ে যায়। মস্তিস্কে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। ফলে দুশ্চিন্তা কমে। দোয়া করার মাধ্যমে মনের দুঃখ কষ্ট লাঘব হয় ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠে। সুতরাং ইসলামের শিক্ষা যে কত আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত তার প্রমান আধুনিক যুগেও পাওয়া যায়।

কিন্তু রোগ যখন সিভিয়ার পর্যায়ে পৌছায়, তখন বিভিন্ন রকম মেডিসিন যেমন anti depressant (TCA), se-lective sero-tonine reuptake inhibitor (SSRI), selective nor epineph rine re uptake inhibitor (SNRI), monoamine oxidase A inhibitor (MAO-A) প্রভৃতি ঔষধ খাওয়া যেতে পারে কোন উপযুক্ত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে থেকে, ফলে সহজেই এই রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এছাড়া ডিপ্রেশন যদি ড্রাগ রেজিস্টান্ট পর্যায়ে পৌঁছে গেলে, Electric Convulsive Them py (ECT), Vagus Nerve Stimulation (VNS), Transcranial Mag-netic Stimulation(TMS) প্রভৃতি ট্রিটমেন্ট অপশন গুলি বিদ্যমান।

পরিশেষে এই কথা বলাই প্রোণিধান যোগ্য যে, দুঃখ, কষ্ট, হতাশা জীবনের অঙ্গ, কিন্তু এরই সাথে ধর্য ও আশা নিয়ে জীবনে বেঁচে থাকার অভিজ্ঞতাও ভয়ংকর সুন্দর। পরকালীন অসীম ও স্থায়ী জীবনের তুলনায় নিতান্তই ক্ষুদ্র ও নম্বর এই জীবন কোন তরুণ তরুণীর জীবনে ডিপ্রেশন নামক মানসিক ব্যাধিতে আটকে থাকতে পারেনা। এই প্রসঙ্গে হেলেন কেলার সেই বিখ্যাত উক্তিটি উল্লেখযোগ্য, “জীবনের আশার সমস্ত দরজাগুলি যখন এক এক করে বন্ধ হয়ে যায়, তখন সেই বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজা গুলোর দিকে এমনভাবে চেয়ে থাকি, যে নতুন খুলে যাওয়া দরজাগুলি আমাদের অগোচরে রয়ে যায়।”

লেখক: ডা. তানবির আহমেদ

Leave a Response