Uncategorized

এটিএসের তথ্য প্রমাণ জাল ও বানানোঃ আবদুল ওয়াদি

471views

ইউসুফ ইসলাম


এটিএসের তথ্য প্রমাণ জাল ও বানানো। মত, ৭/১১ মুম্বাই বিস্ফোরণে ৯ বছর জেল খাটার পর প্রমানিত নির্দোষ আবদুল ওযাদিয়ের। 

আমার পরিবারে পাঁচ ছেলে মেয়ে আছে। আমি কিন্তু কোনদিনই সমাজের জন্য বিপদের কারণ হযে দাড়াইনি। তবুও আমাকে শাস্তি পেতে হল। কাঁদতে কাঁদতে চোখের জল মুচ্ছেন আর বলছেন- যে ১২ জনের বিরুদ্ধে সাজা শোনানো হয়েছে তাঁরা প্রত্যেকেই আমার মতো নির্দোষ। এটিএস (এন্টি টেররিস্ট স্কোয়াড) যেভাবে মিথ্যা তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আমাকে এই মামলায় জড়িয়েছিল, বাকিদেরও ঠিক একইভাবে জড়ানো হয়েছে। এটিএস-এর সমস্ত তথ্য-প্রমাণই জাল এবং এগুলি তাদেরই বানানো। এটিএস-এর দাখিল করা জাল তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই কোর্ট তার রায় শুনিয়েছে, কোর্ট আমাদের অন্তরের কান্না শুনতে পায়নি। বক্তা অন্যকেউ নন, স্বযং আবদুল ওয়াহিদ দীন মুহাম্মদ শেখ। যিনি ২০০৬ সালে মুম্বাই লোকাল ট্রেনে সিরিযাল বিস্ফোরণের ১৩ জন অভিযুক্তের অন্যতম। ৯ বছর জেল খাটার পরে তিনি কোর্ট থেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ হিসেবে সদ্য মুক্তি পেয়েছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৫ সালে, ১২ জন অভিযুক্তের সাজা ঘোষণার দিন কোর্ট চত্তরে হাজির থেকে একথা জানান আব্দুল ওযাহিদ। ২০০৬ সালের ৭ নভেম্বর মুম্বাইয়ে লোকাল ট্রেনে সিরিয়াল বোমা বিস্ফোরণ হয়। সেই বিস্ফোরণে ১৮৯ জন নিহত হন। ৩০ সেপ্টেম্বর, মহারাষ্ট্রের মকোকা কোর্ট, এই মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাজা শুনিয়েছিল। ১২ জনের মধ্যে ৫ জনের  মৃত্যুদণ্ড এবং বাকীদের যাবজ্জীবন দিয়েছিল।

অভিযুক্তদের হয়ে আইনি লড়াই লড়েছিল, জামাযাতে উলেমা মহারাষ্ট্র। রাযদানের পরে সেদিন জামাযাতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আমরা আদালতের উপর শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, এই রাযে বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আবেদন করা হবে। আমরা আশা করছি, প্রত্যেকেই নির্দোষ হিসেবে মুক্তি পাবে।

এর আগেও অক্ষরধামের ক্ষেত্রে ১১ জনের বিরুদ্ধে ফাঁসির সাজা ঘোষণা করা হয়েছিল। আসামিদের পক্ষে আইনি লড়াই জারি ছিল।  পরে, প্রত্যেকেই সুপ্রীম কোর্ট থেকে নির্দোষ হিসেবে ছাড়া পেয়েছিল। এছাড়া এরকম অনেক মামলারই উদাহরণ আছে, যেখানে নিন্ম আদালত ফাঁসির রায় শোনালেও হাইকোর্ট-সুপ্রীমকোর্ট সেই রায খারিজ করে অভিযুক্তদের নির্দোষ হিসেবে মুক্তি দিয়েছে। অক্ষরধাম মন্দিরের হামলার সাজাপ্রাপ্তরা সুপ্রীমকোর্ট থেকে মুক্তি পেলেও এখনো কিন্তু জানা যায়নি, ২০০৩ সালের প্রারম্ভে গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনের তিনমাস আগে কে বা কারা কিসের স্বার্থে অক্ষরধাম মন্দিরে হামলা করেছিল ? ২০০৮ সালে, শহীদ হেমন্ত কারকারে এটিএস এর প্রধান হওযার পরে জানা যায় যে, ভারতের অধিকাংশ সন্ত্রাসবাদী আক্রমনের মূল চক্রান্তকারী হল- বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। কারকারের আবির্ভাবের আগে সমস্ত ধরণের সন্ত্রাসী হামলার জন্যে মুসলিমদের দাযী করা হত, এমনকি মুসলিম মহল্লাগুলি থেকে শত শত মুসলিম যুবকদের তুলে নিযে গিয়ে অকথ্য অত্যাচার করা হত। কিন্তু পরে দেখা যায়, প্রায় সবগুলি সন্ত্রাসী আক্রমনের জন্যে দায়ী- সন্ত্রাসী গেরুযা বাহিনী। শহীদ হেমন্ত কারকারের নির্ভীক – নিরপেক্ষ তদন্তে জানা যায়, ২০০৬ সাল ছিল গেরুয়া সন্ত্রাসবাদীদের স্বর্ণযুগ। তাই, হেমন্ত কারকারে জীবিত থাকলে জানা যেত, সমঝোতা এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের মতই ২০০৬ সালে সিরিয়াল বিস্ফোরণ ঘটনার পিছনে কাদের হাত ছিল।

(সংবাদ সুত্র- দ্যা এশিযান এজ, ডেকান ক্রনিকাল, দ্যা নবভারত টাইমস, আউটলুক)

Leave a Response