Uncategorized

মওলানা রুমির পঙক্তি : শেষ পর্ব

325views

মূল ফার্সি থেকে অনুবাদ: জাভেদ হুসেন

৫২.
দুঃখ আর প্রশান্তিতে যে হৃদয় অধীর হয়ে যায়
সে আর কবে তার দর্শনের যোগ্য হয়েছিল

৫৩.
প্রেমের কুঞ্জে যার আবাস চিরস্থায়ী
এর ফল দুঃখ আনন্দের বাইরে অন্য কিছু

৫৪.
আমার অবস্থা সত্যের ফাঁসিকাঠে সন্দেহহীন
পৃথিবীর মদিরায় সেই নেশা কোথায়?

৫৫.
তোমার হৃদয়কুঞ্জও হবে বসন্তে রঙ্গীন
পত্রপুষ্পে ধরবে লাবণ্য

৫৬.
দেখো ! পাতায় লুকিয়ে পড়েছে শাখা
ফুলের প্রাচু্র্যের আড়ালে লুকিয়ে গেছে মরু

৫৭.
এই ফুল না হলে কোথা হতে আসে ফুলের গন্ধ
মদিরার নেশা আসে কোন মদিরা ছাড়াই

৫৮.
এই সুগন্ধই তোমাকে দেখাবে পথ
স্বর্গের দ্বার পর্যন্ত হবে তোমার পথদর্শী

৫৯.
এই সুগন্ধ অসুখী দৃষ্টির ওষুধ
ইয়াকুবের দৃষ্টির নিদান

৬০.
তুমি ইউসুফ না হলে ইয়াকুব হও
অশ্রু বর্ষণ করো দুঃখ সও ক্ষ্যাপা হও

৬১.
শিরিঁ না হলে ফরহাদ হও
লায়লা না যদি তবে কায়েস হও

৬২.
যার বুকের দরজা খোলা
ধুলোকণায় সে সূর্যের জ্যোতি দেখে

৬৩.
সত্যের স্বরূপ সবার মাঝে আলোকিত হয়ে আছে
নক্ষত্রদের মাঝে যেমন করে চন্দ্র বিরাজ করে

৬৪.
চোখের ওপর আঙুল রেখে সত্যি বলো তো
এই দুনিয়া কি আর নজরে পড়ে কিছু?

৬৫.
তুমি নেই বলে কি দুনিয়া নেই হয়ে গেল?
না কি ইন্দ্রিয়ের অন্ধকারে আড়াল হয়ে গেল?

৬৬.
হুশিয়ার দৃষ্টি ছাড়া আমরা আর কি
দেখা মানে সে কেবল প্রিয়র দেখা পাওয়া

৬৭.
হৃদয়ের ডাক শোন! ফুলের সুগন্ধের মতো
হাসো! মদিরার মতো আনন্দ বিলিয়ে যাও

৬৮.
এসো! আমাকে আমার কাছ থেকে কিনে নাও
আমি তোমার না হয়ে বদনাম হতে চাই না

৬৯.
শোন! নিজেই এসেছি চলে তোমার কাছে
আমার চাইতেও তো তুমি আমার নিকটে আছ

৭০.
এতো কাছে থেকেও দূরে আছি
আলোকহীন আমি, আলোর প্রকাশ দাও

৭১.
প্রার্থনার শক্তি তো তুমিও দিয়েছ
নইলে হাঁপড়ের জন্য কি ফুলবাগানের দরজা খোলে?

৭২.
এই যে চোখ থেকেও আলোর স্রোত
ক্ষণে ক্ষণে ছুঁয়ে যাচ্ছে আকাশ

৭৩.
এক টুকরো মাংসপিণ্ড এই যে জিভ
তার থেকে বয় প্রজ্ঞা দর্শনের স্রোত

৭৪.
শ্রবণ সেই নিয়ামত যে প্রাণের জন্য
বিদ্যা আর জ্ঞানের উপহার পাঠিয়ে যায়

৭৫.
তুমি বেদনা হলে, বেদনার নিদানও তুমি
ভাবনা হলে সে ভাবনার উপকরণও তুমি

৭৬.
তৃষ্ণার্ত থাকো, জলের অন্বেষণ বাদ দাও
তবে জল নিজেই তোমাকে খুঁজে নেবে

৭৭.
দোষের স্বভাব দূর করো দৃষ্টি থেকে
দেখতে পাবে অদৃশ্যের বসন্ত

৭৮.
শরীরের বন্ধন থেকে প্রাণকে রেহাই দাও
সে যেন ঐ বাগানে নৃত্য করতে পারে

৭৯.
যে ডাক মৃত্তিকা থেকে ওপরে নিয়ে যায়
নিঃসন্দেহে সেই ডাক আরশ থেকে এসেছে

৮০.
যেমন করে পাথর অমূল্য রত্ন হয়ে ওঠে
যখন সে সুরে‌র গুণ ধারণ করে

৮১.
যদি সে নিজ গুণকে ভালবাসে
সে তো আসলে সূর্যকেই ভালবাসা

৮২.
আমিই সত্য বলে ফেরাউনের পতন হলো
সেই আমিই সত্যতে কোথাও মনসুর মত্ত

৮৩.
বন্ধুর দরজায় কড়া নাড়লো বন্ধু
কে? চাইলো জানতে বিরক্ত বন্ধু

৮৪.
বিরহ উত্তাপে মেলে নতুন জীবন
সে আগুনে কাঁচাও পুড়ে খাঁটি হয়

৮৫.
কালের মাঝে যখন সত্যের বাঞ্ছিত হবে তুমি
অংশের মতো সমগ্রের সাথে যাবে মিশে

৮৬.
আমারও হৃদয় আছে দাবী তোমার
আরশে থেকে কী কাজ মৃত্তিকার জগতে

৮৭.
কালো আবর্জনাতেও থাকে জল
সে জলে ওজু তো হয় নিষ্ফল

৮৮.
আমিও আবর্জনাতে থাকা জল
কৃপার সমুদ্র নিজের মাঝে আত্মস্থ করি

৮৯.
জ্যোতির সমুদ্র না হলো যদি হৃদয় কিসের?
সত্যের আলোয় সেই দৃষ্টি হয় না আলোকিত

৯০.
হৃদয়বানকে খুঁজে তাকে হৃদয় দাও
ধুলির কণা হৃদয় তোমার পর্বত হবে সে

৯১.
হৃদয়বানের হৃদয় অধীর সমুদ্র
পুরষ্কারের ঢেউ বয়ে যায় তাতে অবিরাম

৯২.
হৃদয়ের অসুখ বাসনার চিহ্ন
হৃদয়ের অসুখের মতো অসুখ নেই

৯৩.
প্রেমের কারণ কি করে বয়ান করা যায়
প্রেমে যে প্রতি পদক্ষেপেই পরীক্ষা

৯৪.
যদি ব্যাখ্যা করো তাও মন্দ নয়
তবে জেনো ভাষাহীনতাই প্রেমের ভাষা

৯৫.
বুদ্ধি কী বুঝবে প্রেমের রহস্য
প্রেমই পারে প্রেমের ব্যাখ্যা করতে

৯৬.
সত্যের স্মরণে আশ্রয় করে থাকে ভাবনা তার
প্রিয়র স্মরণেই থাকে প্রিয়র মিলন

৯৭.
শুধু নামের কখনো কি কোন অর্থ হয়?
ফুল না থাকলে ফুল লেখার অক্ষর অর্থহীন

৯৮.
এক জায়গায় যদি দশটা প্রদীপও জ্বলে
তবুও তাদের আলাদা করে চেনা যায়

৯৯.
বাইরের এই অহংমগ্নতা নিজ শক্তিতে মেটাও
তবে পাবে একত্বের অপার অমূল্য সম্পদ

১০০.
তোমাকে পেলে পাওয়া হয় সকল গন্তব্য
না বলেই সমাধান হয়ে যায় সব মুশকিল

১০১.
এক ঝাপটা সুগন্ধ এলো, এসে চলে গেলো
যাকে চায় দান করে প্রাণ চলে গেলো

Leave a Response