
লিখেছেন: সন্তোষ রাণা
প্রাক-বৃটিশ যুগে মুঘল আমলে হিন্দু ও মুসলমান উভয়েই সরকারি কাজকর্মে নিযুক্ত ছিলেন। হিন্দুরা বেশির ভাগ জমিজমা ও ভূমি-রাজস্ব নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং ব্যবসা বাণিজ্যে নিযুক্ত ছিলেন। অপরদিকে মুসলমানরা প্রশাসন, বিচারবিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীতে আধিপত্য করতেন। কিন্তু কোনো ক্ষেত্রেই হিন্দু বা মুসলমানের একক আধিপত্য ছিল না। রাষ্ট্র এ সব ক্ষেত্রে বৈষম্য করত না।
পলাশি যুদ্ধের পর এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। ইংরেজরা প্রশাসন, বিচার-বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীতে মুসলমানদের বাদ দেওয়ার নীতি অনুসরণ করে। তাছাড়া বহু মুসলমান জমিদারকেও কোনা না কোনা অজুহাতে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এই নীতিগুলির ফলে মুসলমান উচ্চ ও মধ্য শ্রেণী বিরাট আঘাত পান।
এছাড়া ১৭৯৩ সালে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার কৃষকদের জীবনে অবর্ণনীয় দুর্দশা নামিয়ে আনে। এর ফলে হিন্দু ও মুসলমান উভয় ধর্মাবলম্বী কৃষকেরাই সর্বস্বান্ত হন। বাংলার মুসলমানদের বড় অংশ ছিলেন কৃষক। ফলে চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত ও জমিদারি প্রথার প্রবর্তন মুসলমানদের জীবনে বিরাট সর্বনাশ ডেকে আনে। তদুপরি ইংরাজ শাসকেরা শিক্ষাবিস্তার ও অন্যান্য সেবামূলক কাজে মুসলমান শাসকদের দেওয়া বহু নিষ্কর জমি কেড়ে নেয়। এর ফলে মুসলমান। সমাজের শিক্ষা প্রসারের কাজটি বিরাটভাবে ধাক্কা খায়।
ইংল্যান্ডে শিল্পবিপ্লবের ফলে ভারতীয় হস্তশিল্পী, বিশেষত ততীদের জীবনে বিপর্যয় নেমে আসে। ঔপনিবেশিক শাসকরা এ দেশকে বিদেশে তৈরি কাপড় ও অন্যান্য পণ্যের বাজারে পরিণত করে। যে হস্তশিল্পীরা বংশপরম্পরায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন ও যথেষ্ট সমৃদ্ধ ছিলেন, তাঁরা এখন সর্বস্বান্ত হলেন। তাঁতীরা ছিলেন মুসলমান ও নিম্নবর্ণের হিন্দু। এইভাবে তাদের জীবনে আর্থিক বিপর্যয় নেমে আসে। ১৮৩৭ সালে ব্রিটিশ সরকার সরকারি কাজকর্মে ফার্সির বদলে ইংরাজি ভাষার প্রবর্তন করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই সিদ্ধান্তের ফলে মুসলমানরা সরকারি চাকরি থেকে পুরাপুেরি বাদ পড়ে যান। ১৮১৭ সালে ইংরাজি শিক্ষার মুখ্য প্রতিষ্ঠান হিসাবে গড়ে ওঠে হিন্দু হিন্দু কলেজ। তাতে মুসলমানদের প্রবেশাধিকার ছিল না। মুসলমানরা বারংবার দাবি করার পর ১৮৫০ সালে ক্যালকাটা মাদ্রাসায় ইংরাজি শিক্ষার একটি বিভাগ খালো হয়। এদিকে ১৮৪৪ সালে সমস্ত উচ্চপদ ইংরাজি জানা প্রার্থীদের জন্য সংরক্ষিত করা হয়। ১৮৬৩ সাল থেকে দারাগো এবং মুন্সেফ পদের জন্যও ইংরাজিতে ডিগ্রি বাধ্যতামূলক করা হয়। ব্রিটিশ সরকার ফার্সির বদলে ইংরাজি চালু করার ফলে মুসলমানরা সরকারি চাকরি থেকে পুরাপুেরি বাদ পড়ে যান। অপরদিকে, উচ্চবর্ণ হিন্দুরা বিশেষত বাংলার ভদ্রলাকেশ্রেণী প্রথম থেকে ইংরাজি শিক্ষার সুযাগে নিতে থাকেন এবং ইংরাজরা প্রশাসনের যেটুকু জায়গা নেটিভদের জন্য ছাড়ে সেগুলি পূরণ করতে থাকেন। হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে একটা স্থায়ী বিভাজন তৈরি করার নীতি ইংরেজরা সচেতনভাবেই অনুসরণ করে।
১৮৫৭-র মহাবিদ্রোহের পর ইংরাজদের নীতিতে কিছু বদল ঘটে। ভারতীয় মুসলমানরা শুধু ধর্মের কারণেই ব্রিটিশ রাজের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছে কি না তা অনুসন্ধান করার জন্য গভর্ণর জেনারেল মেয়া, ডবলিউ, ডবলিউ. হান্টারকে নিয়াগে করেন। ১৮৭১ সালে হান্টারের বই “দি ইন্ডিয়ান মুসলমান” প্রকাশিত হয়। তাতে হান্টার এই মত প্রকাশ করেন যে “ব্রিটিশ রাজত্বে এই জাতির সর্বনাশ হয়েছে, তাদের মধ্যে জাতীয়তাবাদের চেতনা অত্যন্ত তীব্র” এবং “তারা যে কোনা সময়ে যুদ্ধবিগ্রহের মত কার্যকলাপের মাধ্যমে এই চেতনার প্রকাশ ঘটাতে পারে।” হান্টারের রিপার্টে প্রকাশিত হওয়ারর পর ইংরাজ সরকার মুসলমানদের মধ্যে থেকে একটি ইংরাজি শিক্ষিত মধ্যশ্রেণী গড়ে তালোর দিকে মনাযোগে দেয়।
হান্টারের রিপার্টে “দি ইন্ডিয়ান মুসলমান” ভারতে মুসলমানদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা অনুসন্ধানের প্রথম সরকারি উদ্যোগ। ইতিহাস প্রমাণ করেছে যে মুসলমানদের জন্য সমানাধিকার ও সমমর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার কোন ইচ্ছা ইংরাজের ছিল না। উদ্দেশ্য ছিল, মুসলমানদের ক্ষোভ কিছুটা প্রশমিত করা।
২০০৫ সালে ভারত সরকার যখন ভারতে মুসলমানদের আর্থিক, সামাজিক ও শিক্ষাগত অবস্থা নিয়ে পর্যালাচেনার জন্য সাচার কমিটি নিয়াগে করলেন, তখন তার পিছনে সৎ কোনা উদ্দেশ্য ছিল, নাকি বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের সাম্রাজ্যবাদবিরাধেী অভ্যুত্থানে আতঙ্কিত মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার ভারতীয় দালালরা মুসলমানদের ক্ষোভ প্রশমনের একটা সেফটি-ভালব হিসাবে একে ব্যবহার করতে চাইছিলেন তা ভবিষ্যতই বলবে। কিন্তু রিপার্টেটিতে রয়েছে অত্যন্ত মূল্যবান তথ্য, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বঞ্চনা ও বৈষম্যের তথ্যভিত্তিক দলিল। সেকারণে রিপার্টেটি ভারতীয় জনসাধারণের কাছে পৌছনা অত্যন্ত জরুরি। ৪৫০ পাতার ইংরাজিতে লেখা একটি রিপার্টে খুব কম ভারতবাসীই পড়তে পারবেন। তাই আমরা সন্তোষ রাণার লেখা এর একটি সংক্ষিপ্তসার বিভিন্ন ভারতীয় ভাষায় প্রকাশ করছি। লেখাটি শ্রী রাণা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে প্রস্তুত করেছিলেন ‘দিনকাল’ পত্রিকার জন্য। এটি পত্রিকাটির জানুয়ারী সংখ্যায় প্রকাশিত হয়।
নিম্নবর্ণ হিন্দু, তপশিলি জাতি, আদিবাসী ও মুসলমান সহ পশ্চাদপদ জনগাষ্ঠেীর জন্য শিক্ষা ও চাকরিতে সমানাধিকার জনসংখ্যার অনুপাতে সংরক্ষণের মাধ্যমে সমাজে গণতন্ত্রকে প্রসারিত করার সংগ্রাম যাঁরা চালাচ্ছেন। তাঁদের যদি কিছু লাভ হয় তাহলেই আমাদের উদ্যোগ সার্থক হবে। [সাবির আহমেদ/সুমিত সিনহা]
সাচার রিপোর্ট: মুসলিম বঞ্চনার দলিল সরকারি নির্দেশনামা
১ই মার্চ ২০০৫, ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এক উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে এবং ভারতে মুসলমানদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত অবস্থার উপর এক রিপার্টে তৈরি করার দায়িত্ব সেই কমিটির হাতে অর্পণ করে। এই কমিটির সভাপতি ছিলেন প্রাক্তন বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচার। কমিটির কাছে সরকারি বিজ্ঞপ্তি যে কাজগুলি করতে বলে সেগুলি হল কেন্দ্রীয় সরকারি দপ্তর এবং রাজ্য সরকারি দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহ করা এবং প্রকাশিত সংখ্যাগণিত, গবেষণাপত্র ও পুস্তকাদি থেকে েপ্রাপ্ত তথ্যের সাহায্যে রাজ্য, অঞ্চল ও জেলা স্তরে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত ক্ষেত্রে মুসলমানদের আপেক্ষিক অবস্থা বিচার করা। এজন্য নিম্নলিখিত প্রশ্নগুলি করা হয়:
১। মুসলমানরা ভারতের কোন কোন রাজ্য, অঞ্চল ও জেলায় অধিক সংখ্যায় রয়েছেন?
২। তারা কী ধরনের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিযুক্ত?
৩। তাদের আয় ও সম্পত্তির পরিমাণ কী রকম?
৪। সামাজিক-অর্থনৈতিক বিকাশের বিভিন্ন মাপকাঠিতে, যেমন সাক্ষরতার হার, স্কুল-ছুট-এর হার, প্রসূতির হার, শিশু মৃত্যুর হার, ইত্যাদিতে তাদের অবস্থা এবং অন্যান্য জনগাষ্ঠেীর সঙ্গে তুলনা।
৫। সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে নিযুক্তিতে তাদের অংশ কতটা? এই প্রশ্নে বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে তুলনা। নিযুক্তিতে তাদের অংশ কি জনসংখ্যার সমানুপাতিক? যদি না হয়, তাহলে কেন নয়?
৬। বিভিন্ন রাজ্যে ওবিসিদের মধ্যে মুসলমান ওবিসিদের অংশ কতটা? সরকারি ক্ষেত্রের নিযুক্তিতে মুসলমান ওবিসিদের অংশ কতটা? কেন্দ্রীয় সংস্থায় এবং বিভিন্ন রাজ্য সংস্থায় তাদের পরিস্থিতি কী?
৭। মুসলমান সমাজ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবা কতটা পান, পৌরসভার দেওয়া সুযোগ সুবিধা কতটা পান এবং সরকারি ও ব্যাংক ঋণের সুযাগে কতটা পান?
৮। উপরাক্তে তথ্য সমূহ, একত্রিত ও সংহত করে সরকারি হস্তক্ষেপের সেইসব ক্ষেত্রগুলিকে চিহ্নিত করা যেগুলি মুসলমানদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শিক্ষাগত অবস্থার সঙ্গে যুক্ত।
রিপােের্টর সাধারণ কাঠামো
উপরাক্তে নির্দেশিকার ভিত্তিতে কমিটি তথ্য সংগ্রহ করে, সেগুলির বিশ্লেষণ করে এবং তাদের সুপারিশ সহ একটি রিপার্টে প্রস্তুত করে। নভেম্বর ২০০৬-এ সেই রিপোর্টে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে জমা পড়ে।
রিপার্টেটি খুব বড় প্রায় ৪৫০ পৃষ্ঠর। এর মধ্যে প্রথম ২৫০ পৃষ্ঠার মধ্যে রয়েছে ১২টি পরিচ্ছেদ। তারপরের ২০০ পৃষ্ঠায় সংযাজেনী হিসাবে রয়েছে। বিভিন্ন সারণী, টীকা ও উল্লেখসমূহ।
প্রথম পরিচ্ছেদে আলািেচত হয়েছে কমিটির কর্তব্য, এবং তা সম্পাদন করার জন্য গৃহীত প্রণালী ও পদ্ধতি। কমিটির তথ্যের জন্য যেসব উৎসের উপর নির্ভর করে, সেগুলি হল: ১। ২০০১ লাকে গণনা রিপার্টে: এই রিপার্টে থেকে নেওয়া
হয়েছে সমগ্র জনসংখ্যার তথ্য, মুসলমানদের জন্য তথ্য, তপশিলী জাতি ও জনজাতিদের জন্য তথ্য, অন্যান্য সংখ্যালঘু সংক্রান্ত তথ্য এবং কখনা েকখনা েসমস্ত হিন্দুদের জন্য তথ্য। ২। জাতীয় নমুনা সমীক্ষা সংগঠনের ৫৫-তম ও ৬১-তম দফা থেকে প্রাপ্ত তথ্য। মুসলমান ওবিসি সম্পর্কে তথ্যও এখান থেকে নেওয়া।
৩। ব্যাংকিং এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠন সম্পর্কে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের দেওয়া তথ্য ছাড়াও নাবার্ড (NABARD), সিডবি (SIDBI) ও জাতীয় সংখ্যালঘু উন্নয়ন নিগম (NMD-FC) ইত্যাদির তথ্য।
৪। বিভিন্ন সরাকরি কমিশন যেমন জাতীয় পশ্চাদপদ শ্রেণী কমিশন, বিভিন্ন রাজ্যের পশ্চাদপদ শ্রেণী কমিশন, ইত্যাদির তথ্য।
৫। বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সরবরাহ করা তথ্য।
দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে আলািেচত হয়েছে বিভিন্ন গণ-ধারণা সমূহ। যেমন: মুসলমানরা নিজেদের পরিস্থিতি সম্পর্কে কী ভাবেন বা অন্যান্য জনগাষ্ঠেী তাদের। সম্পর্কে কী ভাবেন, ইত্যাদি। এই ধারণাগুলি লিপিবদ্ধ করার সময় রিপােের্ট সতর্কবাণী দেওয়া হয়েছে যে, সব ধারণাগুলি সঠিক নাও হতে পারে। আবার এটাও বলা হয়েছে যে এই ধারণাগুলির কোনাে না কোনা েভিত্তি আছে।
তৃতীয় পরিচ্ছেদে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার, জনসংখ্যার বয়স ও লিঙ্গভেদে বণ্টন, শহরে বাস, শিশু পুষ্টি এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধির সম্ভাবনা আলািেচত হয়েছে।
চতুর্থ পরিচ্ছেদে মুসলমানদের শিক্ষাগত অবস্থা আলািেচত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সাক্ষরতার হার, স্কুল শিক্ষার হার, উচ্চশিক্ষার অবস্থা, মাদ্রাসা পরিস্থিতি এবং ভাষার সমস্যা।
পঞ্চম পরিচ্ছেদে অর্থনীতি ও কর্ম নিযুক্তিতে মুসলমানদের অবস্থার সার্বিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে জনসংখ্যায় শ্রমিকদের অনুপাত (WPR), কাজের ধরন অনুযায়ী শ্রমিকদের বিভাজন, কর্ম নিযুক্তির নিশ্চয়তা এবং বিভিন্ন রাজ্যে এই অবস্থাগুলির তুলনা। সরকারি কর্মচারিদের মধ্যে মুসলমানদের অংশটি একটি পৃথক পরিচ্ছেদে (নবম) বিস্তৃতভাবে আলাচেনা করা হয়েছে।
যষ্ঠ পরিচ্ছেদে আলািেচত হয়েছে মুসলমানদের পাওয়া ব্যাংক-ঋণের সুযাগে বা অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ঋণের সুযাগে।
সপ্তম পরিচ্ছেদে রয়েছে সামাজিক পরিকাঠামায়ে মুসলমানদের পাওয়া সুযাগে, তাদের গ্রামগুলির অবস্থা, জীবনধারণের অবস্থা, ইত্যাদি।
অষ্টম পরিচ্ছেদে দারিদ্র্য, উপভোগে ও জীবনধারণের মান সম্পর্কিত অবস্থা আলািেচত হয়েছে। এই প্রসঙ্গে অন্যান্য সামাজিক-ধর্মীয় গাষ্ঠেী যেমন তপশিলী জাতি ও জনজাতিদের সঙ্গে মুসলমানদের তুলনা দেখানা হয়েছে।
দশম পরিচ্ছেদে আলািেচত হয়েছে মুসলমানদের মধ্যে যাঁরা ওবিসি হিসাবে চিহ্নিত হয়েছেন তাদের অবস্থা। মুসলমান ওবিসিরা সংরক্ষণ বা অন্যান্য ব্যবস্থায় কতটুকু উপকৃত হয়েছেন সেটাও তুলে ধরা হয়েছে এবং বহু সংখ্যক মুসলমান যে এখানে ওবিসি তালিকাভুক্ত হননি তাও উল্লেখ করা হয়েছে।
একাদশ পরিচ্ছেদে মুসলমান সমাজের নিজস্ব সামাজিক প্রতিষ্ঠান, যেমন, ওয়াকফ-এর পরিস্থিতি আলাচেনা করা হয়েছে। কি পরিমাণ সম্পত্তি ওয়াকফএর মধ্যে রয়েছে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে সেগুলির ব্যবহারে কী কী বাধা রয়েছে সেগুলি এখানে আলািেচত হয়েছে। এ দ্বাদশ পরিচ্ছেদে রয়েছে গাটো রিপােের্টর একটি সার-সংকলন ও সুপারিশ সমূহ। সরকার কোন কোন সাধারণ কর্মনীতি ও বিশেষ কর্মনীতি গ্রহণ করতে পারে সেগুলি আলািেচত হয়েছে।


