
লেখক: সেখ খালিদ মাহমুদ
গোটা দেশের জনগণ থেকে শুরু করে সমগ্র ছাত্র-যুব সমাজের দৃষ্টি এখন দিল্লির যন্তর মন্তরে। হ্যাঁ, ওখানে চলছে ককরোচ জনতা পার্টি পরিচালিত শিক্ষা আন্দোলন। কী তাদের দাবি? নেট প্রশ্নফাঁস নিয়ে তদন্ত, দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আর আত্মহত্যাকারী ছাত্রছাত্রীদের প্রতি সহমর্মিতা। দেশ-বিদেশের নানান গুণীজনেরা তাদের সমর্থন দিয়েছেন, পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন বহু সেলিব্রেটি। কেন?–কারণ কেউ তো সাহস করে প্রশ্ন করেছে, “রাজা, তোর কাপড় কোথায়?” প্রশ্ন, এই একটা কাজ করেছেন তো ফেঁসেছেন। যেমন বলা, তেমন কাজ। Home Ministry-এর অধীনস্থ দিল্লি পুলিশ শিক্ষার অধিকার চাওয়া ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর চালিয়েছে বর্বরোচিত আক্রমণ, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, জল-কামান, প্যারা-মিলিটারি ফোর্স থেকে শুরু করে গ্রেপ্তার, মারধর—সবকিছুই। আর এই সবকিছুর পর এক মাস ধরে চলা আন্দোলন নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন অনেকেই। সবার সব কথার মাঝে অরিজিৎ সিং-এর বলা একটি কথা যেন বাস্তবকে আয়না দেখায়। দিল্লি পুলিশের পোশাকে আরএসএস-এর ক্যাডার্স আর কেন্দ্র সরকারের বর্বরোচিত অন্যায়ের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠা অরিজিৎ সিং-এর সেই জ্বালাময়ী আওয়াজ–”নিজেদের কী ভগবান মনে করতে শুরু করেছেন? মনে রাখবেন, এই পৃথিবীতে একমাত্র চিরস্থায়ী সত্য হলো পরিবর্তন।”
পরিবর্তন সত্যিই এক নিষ্ঠুর পরিহাস।
যেই জাতীয় কংগ্রেসের গত দুই মাস আগে পর্যন্ত কলকাতার কোনো নামী-দামি হোটেলেও অনুষ্ঠান করে ২/৩ হাজার লোক জড়ো করার ক্ষমতা ছিল না, আজ শহীদ মিনারে তাদের হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় তাদের ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কারা এরা?—হুম, এদের মধ্যে বহুজন মন-প্রাণ দিয়ে দল করা থাকলেও বেশির ভাগই তৃণমূল ছেড়ে আসা কর্মী-সমর্থক। আর এই কথা বলতেও দ্বিধা নেই, এরাই এক সময় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে গিয়েছিল।
কিসের জন্য? কিসের স্বার্থে? প্রশ্ন রেখে গেলাম।
আবার ভোট-পরবর্তী সময়ে ভেঙে চৌচির হয়ে ওঠা তৃণমূল কংগ্রেস আলাদা আলাদাভাবে শহীদ দিবস পালন করেছে। প্রথমে আসি ‘ভালো তৃণমূল’এর পক্ষে। প্রায় ৬২ জন MLA নিয়ে নতুনভাবে তৈরি এই দল। একটা ইন্টারভিউয়ে দেখলাম, একজন MLA-কে ২০০০ জনের টার্গেট দেওয়া ছিল। হিসেবটা প্রায় ১ লাখের উপর। উপস্থিতি লক্ষ্যমাত্রা না ছুলেও কম উপস্থিতি ছিল না। নিজ নিজ স্বার্থে এই শিবিরে যোগ দেওয়া কর্মী-সমর্থকগুলো রাজনৈতিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্ত রেখেছে। অনুষ্ঠানও যথেষ্ট সফলতার সঙ্গে সফল হয়েছে।
কালীঘাট নিয়ে বললে বলতে হয়, তাদের সত্যিই একটা স্যালুট পাওয়া দরকার। নিজের দলের প্রায় ৬২ জন MLA যখন নিজেদের অপরাধ ঢাকতে একে একে গাদ্দারি করে দূরে সরে গেছে, ২০ জনের উপরে MP যখন দল ও জনগণের সঙ্গে বেইমানি করে বিরোধী শিবিরে, তখন শুধু নেত্রীর ডাকে সাড়া দিয়ে হাজার হাজার মানুষের সমর্থন ও উপস্থিতি এটা প্রমাণ করে, আসল দলের আসল নেত্রী এখনোও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। তারা তাঁর জন্য জান দিতেও পারে। এটা সত্যি, তারা বুঝিয়ে দিল, ১ ইঞ্চি জায়গা ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। আজকের উপস্থিতি হয়তো মমতা/অভিষেককে বাড়তি অক্সিজেন দেবে।
এখন যেই কথা বা আলোচনা খুব প্রাসঙ্গিক, সেটা হলো–৩টে শহীদ দিবস, পৃথক পৃথক জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন মানুষ নিয়ে হলেও তাদের চিন্তাভাবনা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য, কর্মপদ্ধতি প্রায় সমান। তাদের সকলেরই লক্ষ্য বিজেপি হটাও। ৩ শিবিরের মোট উপস্থিতি যদি মোটামুটি একসঙ্গে করা হয়, তাহলে কয়েক লক্ষ নিঃসন্দেহে। ISF ও বামদের ভোট তো এই অঙ্কের বাইরে। সেই সংখ্যাটাও কয়েক লক্ষ।
লক্ষ্য যখন এক, তখন লড়াই পৃথকভাবে কেন? রাজনৈতিক নেতাদের স্বার্থ? হ্যাঁ, এটা সত্য। কিন্তু এর বাইরে বিকল্প কী? কে বাঁধবে বিড়ালের গলায় ঘণ্টা? রাহুল গান্ধী? পিকে? আই-প্যাক? ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স? সিদ্দীকুল্লাহ? অভিষেক? ত্বহা সিদ্দিকী, নাকি কোন ইসলামী সংগঠন?
এই সবের মাঝে মুখ্যমন্ত্রী কিন্তু ভীষণ টাফ। ২২টা টোল আর ৪০টার বেশি পেট্রোল পাম্প থেকে অর্জিত টাকা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দিতেই শেষ। সপ্তম পে কমিশন বসল বলে। সরকারি কর্মচারী, দে তালি।
(মতামত লেখকের নিজস্ব)





