1. https://cte.uet.vnu.edu.vn/dai-hoc-quoc-gia-ha-noi-30-nam-tien-phong-doi-moi-tro-thanh-dai-hoc-da-nganh-da-linh-vuc-hang-dau-cua-viet-nam/
2. https://cte.uet.vnu.edu.vn/gop-y-van-kien-dai-hoi-xiv-cua-dang-viet-nam-khong-chi-tham-gia-hoi-nhap-ma-co-the-dinh-hinh-hoi-nhap/
3. https://cte.uet.vnu.edu.vn/the-eleventh-national-conference-on-mechanics-and-the-ninth-national-congress-of-the-vietnam-association-for-mechanics/
4. https://cte.uet.vnu.edu.vn/dua-ai-tro-thanh-mon-bat-buoc-don-bay-quan-trong-cua-giao-duc-dai-hoc-viet-nam/
5. https://cte.uet.vnu.edu.vn/nguoi-thay-thap-sang-uoc-mo-mo-duong-cho-the-he-tre-hoi-nhap-voi-nen-khoa-hoc-the-gioi/
6. https://cte.uet.vnu.edu.vn/hoi-thao-cach-mang-cong-nghiep-4-0-co-hoi-va-thach-thuc-voi-cac-nganh-ky-thuat-cong-nghe/
7. https://cte.uet.vnu.edu.vn/khoa-hoc-khong-chi-thuc-day-kinh-te-ma-con-la-nen-tang-cua-mot-quoc-gia-tri-thuc-sang-tao/
10. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/khong-co-dai-hoc-manh-khong-the-co-cong-nghe-loi/
11. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/thong-bao-so-2-hoi-nghi-co-hoc-toan-quoc-lan-thu-xi/
12. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/truong-dh-cong-nghe-co-chu-tich-hoi-dong-truong-va-hieu-truong-moi/
13. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/47-nguoi-viet-vao-top-nha-khoa-hoc-anh-huong-nhat-the-gioi-2023/
14. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/xay-dung-he-sinh-thai-khoa-hoc-cong-bang-de-phat-trien-tai-nang-tre/
15. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/truong-dai-hoc-cong-nghe-dhqghn-thanh-lap-khoa-cong-nghe-xay-dung-giao-thong/
16. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/gs-nguyen-dinh-duc-viet-nam-da-cham-mot-tay-vao-nganh-san-xuat-chip-ban-dan/
17. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/gs-tskh-nguyen-dinh-duc-viet-nam-co-5-nha-khoa-hoc-vao-danh-sach-hang-dau-the-gioi/
18. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/gs-tskh-nguyen-dinh-duc-nha-khoa-hoc-duoc-xep-hang-trong-nhom-10-000-nha-khoa-hoc-hang-dau-the-gioi/
19. https://irgamme.uet.vnu.edu.vn/gop-y-van-kien-dai-hoi-xiv-cua-dang-viet-nam-khong-chi-tham-gia-hoi-nhap-ma-co-the-dinh-hinh-hoi-nhap/
History

সতেরো বছরের সেনাপতি: সিন্ধু বিজয়ের অমর ইতিহাস

198views

লিখেছেন: হুজ্জাতুল ইসলাম পাইক

খ্রিস্টাব্দ ৭১২। আরবের উত্তপ্ত মরুভূমি পেরিয়ে সিন্ধুর দিকে এগিয়ে চলেছে এক বিশাল সেনাবাহিনী। তাদের সামনে এমন এক রাজ্য, যাকে দীর্ঘদিন ধরে শক্তিশালী ও দুর্ভেদ্য বলে মনে করা হতো। সেই রাজ্যের নাম সিন্ধু। আর তার শাসক ছিলেন শক্তিশালী রাজা দাহির।তবে এই অভিযানের সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব।

তিনি কোনো প্রবীণ ও কিংবদন্তিতুল্য সেনাপতি নন। যুদ্ধক্ষেত্রে বহু দশকের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কোনো বীরও নন। বিশাল এই বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেন মাত্র সতেরো বছর বয়সী এক তরুণ, মুহাম্মদ বিন কাসিম।

যে বয়সে অধিকাংশ তরুণ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করে, সেই বয়সে তিনি হাজার হাজার সৈন্যের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন। যে বয়সে অনেকেই যুদ্ধের ইতিহাস পড়ে, সেই বয়সে তিনি নিজেই ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় রচনা করতে এগিয়ে যাচ্ছিলেন।

মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযান শুধু একটি সামরিক বিজয়ের ইতিহাস নয়। এটি এক তরুণ সেনাপতির সাহস, নেতৃত্ব, সামরিক দক্ষতা ও ইতিহাসের গতিপথ পরিবর্তনের এক অসাধারণ কাহিনি।

রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে অভিযানের সূচনা

মুহাম্মদ বিন কাসিমের গল্প শুরু হয় যুদ্ধক্ষেত্রে নয়। এর সূচনা রাজনৈতিক অস্থিরতা, সমুদ্রপথের বাণিজ্য এবং এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার মধ্য দিয়ে। সপ্তম ও অষ্টম শতাব্দীতে উমাইয়া খেলাফতের বিস্তার দ্রুত ঘটছিল। পারস্য থেকে উত্তর আফ্রিকা এবং স্পেন পর্যন্ত তাদের প্রভাব ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত সিন্ধু তখনও উমাইয়া শাসনের বাইরে ছিল।

সিন্ধুর গুরুত্ব ছিল বহুমাত্রিক। এটি ছিল সমুদ্রবাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। আরব বণিকদের জাহাজ নিয়মিত এই অঞ্চলের সমুদ্রপথ ব্যবহার করত। বাণিজ্য, রাজনীতি ও সামরিক কৌশল, সব দিক থেকেই সিন্ধুর অবস্থান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঐতিহাসিক বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে, একসময় শ্রীলঙ্কা থেকে আরবদের উদ্দেশে উপহার এবং কিছু মুসলিম নারী ও শিশুকে নিয়ে একটি জাহাজ সমুদ্রপথে যাত্রা করেছিল। সিন্ধুর উপকূলের কাছে জাহাজটি জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়। সম্পদ লুট করা হয় এবং যাত্রীদের বন্দী করা হয়।এই ঘটনার খবর পৌঁছে যায় ইরাকের শক্তিশালী গভর্নর হজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে।

হজ্জাজ রাজা দাহিরের কাছে বার্তা পাঠিয়ে বন্দিদের মুক্তি এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। রাজা দাহিরের বক্তব্য ছিল, জলদস্যুরা সরাসরি তার নিয়ন্ত্রণে নেই। কিন্তু হজ্জাজ এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি।তার কাছে ঘটনাটি শুধু জলদস্যুতার বিষয় ছিল না। এটি ছিল সাম্রাজ্যের মর্যাদা ও কর্তৃত্বের প্রশ্ন।অবশেষে সিন্ধুর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

ব্যর্থ অভিযানের পর নতুন সেনাপতি

সিন্ধু জয় কোনো সহজ কাজ ছিল না। এর আগে একাধিক সামরিক অভিযান ব্যর্থ হয়েছিল। অনেক সৈন্য নিহত হয়েছিল এবং অভিজ্ঞ সেনাপতিরাও সাফল্য অর্জন করতে পারেননি।

বিশাল মরুভূমি, দুর্গম পথ, শক্তিশালী দুর্গ, অভিজ্ঞ সৈন্যবাহিনী এবং রাজা দাহিরের সুদৃঢ় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সিন্ধুকে কঠিন এক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছিল।

তাই নতুন অভিযানের জন্য প্রয়োজন ছিল এমন একজন নেতার, যিনি সাহসী, শৃঙ্খলাবদ্ধ, দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম এবং কঠিন পরিস্থিতিতে অবিচল থাকতে পারেন।এই সময় হজ্জাজ বিন ইউসুফের দৃষ্টি পড়ে এক তরুণের ওপর।তার নাম মুহাম্মদ বিন কাসিম।

অল্প বয়সে অসাধারণ প্রস্তুতি

মুহাম্মদ বিন কাসিমের জন্ম আরবের তাইফ শহরের একটি সম্মানিত পরিবারে। অল্প বয়স থেকেই তিনি অস্ত্রচর্চা, অশ্বারোহণ, প্রশাসনিক শিক্ষা এবং সামরিক কৌশলে প্রশিক্ষণ লাভ করেন।

হজ্জাজ বিন ইউসুফ তার মধ্যে বিশেষ গুণ লক্ষ্য করেছিলেন। তিনি শুধু সাহসীই ছিলেন না, ছিলেন শৃঙ্খলাবদ্ধ, ধৈর্যশীল এবং দায়িত্ব পালনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। ফলে অল্প বয়সেই তিনি প্রশাসনিক ও সামরিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পান।

যখন সিন্ধু অভিযানের নতুন সেনাপতি হিসেবে তার নাম ঘোষণা করা হলো, তখন অনেকেই বিস্মিত হয়েছিলেন।মাত্র সতেরো বছর বয়সী এক তরুণ কি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের নেতৃত্ব দিতে পারবেন? প্রবীণদের মধ্যে প্রশ্নও উঠেছিল। কিন্তু মুহাম্মদ বিন কাসিম বিতর্কে জড়াননি। তিনি জানতেন, নিজের যোগ্যতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ দিতে হবে কর্মক্ষেত্রেই।তার জন্য প্রস্তুত করা হয় বিশাল এক বাহিনী। অশ্বারোহী, পদাতিক, অভিজ্ঞ যোদ্ধা, রসদবাহী কাফেলা এবং অবরোধযন্ত্র নিয়ে শুরু হয় দীর্ঘ অভিযানের প্রস্তুতি।

মুহাম্মদ বিন কাসিম প্রতিটি ইউনিটকে সুসংগঠিত করেন। সৈন্যদের দায়িত্ব নির্ধারণ, রসদ সরবরাহ, যোগাযোগ ও যুদ্ধপরিকল্পনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।অবশেষে আরব ভূমি থেকে যাত্রা শুরু করে সেই বাহিনী।

তাদের সামনে ছিল দীর্ঘ পথ, প্রখর মরুভূমি, অজানা ভূখণ্ড এবং এক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ।কিন্তু তরুণ সেনাপতির লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট।সিন্ধু অভিযান সফল করতে হবে।

দাইবুল: সিন্ধুর প্রবেশদ্বারে প্রথম বড় পরীক্ষা

দীর্ঘ যাত্রার পর মুহাম্মদ বিন কাসিমের বাহিনী পৌঁছায় সিন্ধুর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর দাইবুলের সামনে।।দাইবুল শুধু একটি শহর ছিল না। এটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর, বাণিজ্যকেন্দ্র এবং সিন্ধুর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান ঘাঁটি।

শহরটি ছিল শক্তিশালী প্রাচীর ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সুরক্ষিত। শহরের কেন্দ্রস্থলে ছিল একটি বিশাল মন্দির, যার চূড়ায় উড়ত একটি পতাকা। স্থানীয়দের মধ্যে বিশ্বাস ছিল, যতদিন সেই পতাকা উড়বে, ততদিন দাইবুল অজেয় থাকবে।

মুহাম্মদ বিন কাসিম বুঝতে পেরেছিলেন, দাইবুল জয় না করলে সিন্ধুর অভ্যন্তরে অগ্রসর হওয়া কঠিন হবে।তাই তিনি সরাসরি ঝাঁপিয়ে পড়ার পরিবর্তে প্রথমে শহরটিকে ঘিরে ফেলেন। সরবরাহের পথ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং শুরু হয় দীর্ঘ অবরোধ।

কিন্তু দাইবুল সহজে ভাঙেনি।তখন ব্যবহার করা হয় বিশাল মাঞ্জানিক বা অবরোধযন্ত্র। ঐতিহাসিক বর্ণনায় এই শক্তিশালী মাঞ্জানিকের নাম “আল আরূস” বা “কনে” হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।বিশাল পাথর নিক্ষেপ করে দিনের পর দিন দাইবুলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত করা হতে থাকে।

একসময় মন্দিরের চূড়ার পতাকাটিও নিচে পড়ে যায়।এই ঘটনা শহরের প্রতিরোধ ও মনোবলে গভীর প্রভাব ফেলে। মুহাম্মদ বিন কাসিম সুযোগটি কাজে লাগিয়ে চূড়ান্ত আক্রমণের নির্দেশ দেন।অবশেষে দাইবুলের প্রতিরক্ষা ভেঙে পড়ে।

দাইবুল বিজয় ছিল মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযানের প্রথম বড় সাফল্য। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়ে যায়, অল্প বয়সী এই সেনাপতিকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।কিন্তু সামনে অপেক্ষা করছিল আরও বড় চ্যালেঞ্জ। সিন্ধুর শাসক রাজা দাহিরের সঙ্গে চূড়ান্ত সংঘর্ষ।

সিন্ধুর অভ্যন্তরে অগ্রযাত্রা

দাইবুল পতনের পর সিন্ধুর বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে মুহাম্মদ বিন কাসিমের নাম।তিনি ধীরে ধীরে সিন্ধুর অভ্যন্তরে অগ্রসর হতে থাকেন। নেরুন, সেওয়ানসহ একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল তার নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে।

তবে তার অগ্রযাত্রা শুধু সামরিক শক্তির ওপর নির্ভরশীল ছিল না। নতুন দখলকৃত অঞ্চলগুলোতে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে আত্মসমর্পণকারী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে তুলনামূলক নমনীয় নীতি গ্রহণ করা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসনের কিছু অংশ বহাল রাখা হয়।এর ফলে তার অগ্রযাত্রা আরও সুসংগঠিত ও দ্রুত হয়ে ওঠে।অন্যদিকে রাজা দাহিরও বুঝতে পেরেছিলেন, এটি আর কোনো সাধারণ সীমান্ত সংঘর্ষ নয়।এটি ছিল তার রাজ্যের ভবিষ্যতের প্রশ্ন।

সিন্ধুর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সৈন্য সংগ্রহ করা হয়। অভিজ্ঞ যোদ্ধাদের একত্র করা হয়। আর যুদ্ধক্ষেত্রে আনা হয় সেই সময়ের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক শক্তি, যুদ্ধহাতি।ভারী বর্মে সজ্জিত বিশাল হাতিগুলো যুদ্ধক্ষেত্রে ছিল শক্তি ও আতঙ্কের প্রতীক।অবশেষে দুই বাহিনী মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিল।তাদের মাঝখানে ছিল সিন্ধু নদ। এক পাশে রাজা দাহির।অন্য পাশে মুহাম্মদ বিন কাসিম।ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সংঘর্ষ যেন আসন্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

রাজা দাহির ও মুহাম্মদ বিন কাসিমের মুখোমুখি সংঘর্ষ

অবশেষে মুহাম্মদ বিন কাসিম তার বাহিনী নিয়ে নদী পার হন।দুই বাহিনী মুখোমুখি দাঁড়ায়।শুরু হয় তিরন্দাজদের আক্রমণ। এরপর অশ্বারোহী বাহিনী যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। যুদ্ধ দ্রুত তীব্র সংঘর্ষে পরিণত হয়।রাজা দাহির নিজেও যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন। তিনি দূরে থেকে শুধু নির্দেশ দেননি, নিজেই তার সৈন্যদের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। একটি যুদ্ধহাতির ওপর অবস্থান নিয়ে তিনি সৈন্যদের উৎসাহিত করছিলেন।তার সৈন্যদের বিশ্বাস ছিল, যতক্ষণ রাজা দাহির জীবিত আছেন, ততক্ষণ সিন্ধুর প্রতিরোধ অটুট থাকবে।অন্যদিকে মুহাম্মদ বিন কাসিমও বুঝেছিলেন, যুদ্ধের মূল কেন্দ্রবিন্দু রাজা দাহির।যুদ্ধ যত এগোতে থাকে, দাহিরের অবস্থানের দিকে আক্রমণও তত তীব্র হয়।ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে চলতে থাকে সংঘর্ষ।কেউ সহজে পিছু হটছিল না।তারপর যুদ্ধের গতিপথ বদলে যায়।তীব্র সংঘর্ষের মধ্যে রাজা দাহির নিহত হন।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই সিন্ধুর বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়তে শুরু করে। প্রতিরোধ দুর্বল হয়ে যায় এবং মুহাম্মদ বিন কাসিমের জন্য সিন্ধুর রাজধানীর দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে যায়।

ইতিহাসে এক অমর অধ্যায়

৭১২ খ্রিস্টাব্দের সিন্ধু বিজয় ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছে।মাত্র সতেরো বছর বয়সে মুহাম্মদ বিন কাসিম যে বিশাল সামরিক অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন, তা তার অসাধারণ সাহস, সংগঠক দক্ষতা এবং নেতৃত্বের পরিচয় বহন করে।তার গল্প আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা তুলে ধরে।

বয়স একমাত্র যোগ্যতার মাপকাঠি নয়। দৃঢ় লক্ষ্য, প্রস্তুতি, শৃঙ্খলা, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং সাহস একজন মানুষকে অসাধারণ উচ্চতায় পৌঁছে দিতে পারে। আরবের এক তরুণ সেনাপতি থেকে ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠার এই যাত্রা তাই আজও ইতিহাসের পাঠকদের বিস্মিত করে। সেই কারণেই মুহাম্মদ বিন কাসিমের সিন্ধু অভিযান শুধু একটি বিজয়ের ইতিহাস নয়। এটি এক তরুণের নিজেকে প্রমাণ করার ইতিহাস। এটি সাহস ও নেতৃত্বের ইতিহাস। এটি এমন এক অধ্যায়, যেখানে মাত্র সতেরো বছরের এক যুবক অসম্ভবকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম স্থায়ীভাবে লিখে দিয়েছিলেন। আর সেই নাম, মুহাম্মদ বিন কাসিম।

Leave a Response

WordPress Downloads Avada | Website Builder For WordPress & WooCommerce Avada Website Builder Elements Availability Scheduler for WooCommerce Avante | Business Consulting WordPress Avas - Elementor WordPress Theme Avatar – Author Box for Elementor Avatar – NFT Portfolio Elementor Template Kit Avaz – Fashion Responsive WooCommerce WordPress Theme Avelina – Chocolate and Cake Shop WordPress Theme Aventoura – Travel & Tour Agency Elementor Template Kit