
মুহা. আকমাল হোসেন
বুকে পুষি এক কাঠা ওয়াকফ সম্পত্তি
দেশ প্রেমের এক কাঠা ওয়াকপ সম্পত্তি পুষছি বুক পালসের বাঁ কিনারে; হে রাষ্ট্র, নিতে পা রো!
আমি কবেই দিয়েছি- না দেখাই ঈশ্বর
শতাব্দী শতাব্দী লালন করা প্রার্থনা লয়ের বীমা।
এখানেই ঘুমিয়ে আমার পূর্বপুরুষের মৃত্যু ক্রোম
লেখা হাজার হাজার বিঘা কবর খানা
হে রাষ্ট্র আর তো কিছু নেই
কেবলই আছে-জন্ম মৃত্যু আর পুনর্জন্ম আর
কিছু বিশ্বাস-যেন তেন নাগরিক বাড়িঘর
সেন্সাস আর ক্ষুধার সূচক
আর আছে-
আরো আছে-রাস্তা
পায়ে পায়ে মাখা রাস্তার মিহি ধুলো
রাজপথ! খোলা দুটো হাতর উপরে আকাশ
ছুরির ধারের মতো গান গাওয়া কন্ঠ আছে
আরো আছে
আরো আছে
চোখের ভূগোল ভর্তি ঘৃণার অধিকার।
বিপ্লবের ঘোড়া
রাষ্ট্র যখন আমাদের কন্ঠ গুলো কিমা করে খায়
সংবিধানের রাস্তাগুলো যখন সরু গলি হয়ে যায়
সমাধির মতো পোষা বিষন্ন অন্ধকার!
শেষ সূর্যের আলো তখন লোহা দন্ডের মতো নেমে আসে।
মানুষ তখন ভাতের ভুবন আর পরকাল টপকে
মৃত সময় আর সন্তানের লাশটাকে
কিনতে যায় বিপ্লবের ঘোড়া!
মানুষ নেমেছে রাস্তায়
এইযে দেখছেন- মানুষ নেমেছে রাস্তায়
অনুগত রাস্তাও শুয়ে পড়েছে মানুষের পায়ের নিচে
কোন প্রাচীন সেতু স্বভাবের মত
যে রাস্তা দিয়ে লঙ্কা যেতেও আমাদের রামচন্দ্র
যে রাস্তা দিয়ে কৃষকেরা হেঁটে গেছে সংসদের দিকে
আগুন জ্বালিয়ে দিল আমার দেশ-
মানুষ অরুণ্যেও শুকনো কাঠ পাতার দাবানল জ্বলে
কটা মানুষের মৃত্যু দেখবে রাস্তায়
কিছু অনাহারেকৃষ্ট মানুষ পিঠে তলপেটে হয়তো
থাকবে রাইফেল কিংবা ভারী বুটের কালসিটে।
কিছু মানুষের ইজ্জত মুঠোয় নিয়েই শাসক ছড়াবে খই
দেখুন- আকাশে নীল মেদ জমছে
লাল লাল হয়ে জ্বলছে এ নক্ষত্র আগুন
আকাশ এখন আমার চোখের সামনে বিপ্লবের গম্বুজ।
তুমুল অন্ধকারে ঢেকে যাচ্ছে দেশ
উদ্দেশ্য আর তুমুল আয়োজন যখন নিবিড় অন্ধকার
ডেকে আনে
আমাদের শাসকের চোখ তখন দেখি বন বিড়ালের মত জ্বলে।
দেশ নয়
নাগরিক নয়
অনিশ্চয়তাকে ডোবের ভিতর কেটে গেছে প্রহর!
স্নিগ্ধ ভোরের অপেক্ষায় ডাক দিয়ে উঠুক কটা লাল ঝুটি মোরগ
পিঠ দেওয়ালে লেগে গেলে
বাংলা কবিতাও নেমে পড়ে রাস্তায়।
আমার বাংলা কবিতা
যারা কল্যানকে ভালোবেসে রাস্তায় নেমেছে
যারা মানুষকে ভালোবেসে রাস্তায় নেমেছে
যারা দেশকে ভালবেসে রাস্তায় নেমেছে
তাদের কাতারে দাঁড়ায় আমার বাংলা কবিতা।
যারা ইতিহাস ঐতিহ্যের দুঃস্বপ্ন দেখে রাত্রে জেগে ওঠে
যে রাতে চাঁদ জ্যোৎস্না মরে যায় আলকাতরার মতো কোন নদীর জলে
সেই রাত্রেও জেগে থাকে আমার বাংলা কবিতা।
এখন রাজারা নাকি কুকুর পোষে
ইতিহাস থেকে জেনেছি রাজারা নাকি চিরকাল
হাতি পুষতো ঘোড়া পুষতো
আর পুষতো হোমারের চেয়েও অন্ধ- অন্ধ কয়েকটা ঐতিহাসিক
তারা নাকি লিখতো ইট পাথরের গায়ে রাজার নাম।
রাজা চলে গেল শিকারে
রাজা চলে গেল বনবাসে
রানী চুরি হয়ে গেল
এই গল্পগুলো পড়তে পড়তেই আমরা ভারত বর্ষ
বানিয়ে ফেলেছি
আমরা এখন হাতি বেচেছি আমরা এখন ঘোড়া বেচেছি
আমরা এখন ব্যালট বেচেছি
জনমজুরি দামে
আমাদের রাজা এখন ফিরে আসে বনবাস থেকে
আমাদের রাজা এখন নেমে আসে দুর্গম হিমালয় থেকে
আমাদের রাজা হাতি নয়, ঘোড়া নয় যথেষ্ট কুকুর পোষে
মানুষের অরণ্য থেকে
মানুষের অরণ্যেও মাঝে মাঝে ওঠে ঝড়
ডাল ভাঙা পাতা ওড়া বজ্রপাত কোনটাই অস্বাভাবিক নয়।
দুই একটা পাখিও ডানা ভেঙে পড়ে
দুই একটা হরিণ পালাতে গিয়ে সিং আটকে ফেলে বেনামি লতার জালে
একশো ভাগ সাধু মানুষের যে আখড়া ছিল
যার কাছে থাকতো ছত্রিশ কোটি দেবতা
সেও কেঁপেয়ে ওঠে কয়েকবার
এখনো আকাশে পাকা জাম মেঘ
এখন আকাশ সিংহের গর্জন।





