
লিখেছেন: আলি মোস্তাফা
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজকে নিয়ে যখনই আলোচনা হয়, তখন প্রায় একই কয়েকটি শব্দ বারবার ফিরে আসে পিছিয়ে পড়া, বেকারত্ব, শিক্ষার ঘাটতি, অনুন্নয়ন, প্রান্তিকতা, বঞ্চনা। এই শব্দগুলির অনেকটাই বাস্তবতার ভিতরে দাঁড়িয়ে বলা হয়। কিন্তু সমস্যার ভাষা যত স্পষ্ট, সমাধানের ভাষা তত জোরালো নয়। আমাদের জনপরিসরে এখনো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পায় “চাকরি পাওয়া”। অথচ একটি সমাজের প্রকৃত শক্তি শুধু কতজন চাকরি পেল, তা দিয়ে মাপা যায় না; মাপা যায় কতজন কাজ তৈরি করল, কতজন বাজার গড়ল, কতজন অন্যের উপর নির্ভর না করে নিজের পায়ে দাঁড়াল, আর কতজন নিজের উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে অন্যের জীবনেও অর্থনৈতিক গতি আনল, তা দিয়ে।
এই কারণেই আজ পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের সামনে একটি জরুরি প্রশ্ন দাঁড়িয়ে আছে, আমরা কি কেবল চাকরিপ্রার্থী সমাজ হয়ে থাকব, না কি উদ্যোক্তা সমাজেও পরিণত হব? একটি বড় জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ কি কেবল চাকরির অপেক্ষার উপর দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? শুধু আবেদনপত্র, পরীক্ষা, মেধাতালিকা, নিয়োগের প্রতিশ্রুতি আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা দিয়ে কি একটি সমাজের অর্থনৈতিক পুনর্জাগরণ সম্ভব? না, সম্ভব নয়। আর এই “সম্ভব নয়” কথাটিই আজ নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজে স্টার্টআপ কালচার নিয়ে কথা বলার এটাই সবচেয়ে বড় কারণ। কারণ সময় বদলেছে, বাজার বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, কাজের ধরন বদলেছে; বদলানো দরকার আমাদের অর্থনৈতিক কল্পনাও।
২০১১ সালের জনগণনা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে মুসলমানদের সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি, রাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৭ শতাংশ। মুর্শিদাবাদে মুসলিম জনসংখ্যা প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ, মালদায় অর্ধেকের বেশি, উত্তর দিনাজপুরে প্রায় অর্ধেক। অর্থাৎ পশ্চিমবঙ্গের সামগ্রিক সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে গেলে মুসলিম সমাজকে আলাদা করে দেখা যায় না; এই সমাজের অগ্রগতি মানেই রাজ্যের অগ্রগতির একটি বড় অংশ। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, এত বড় জনসমাজ এখনও প্রধানত অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির উপর নির্ভরশীল- ছোট দোকান, অটো চালানো, হকারি, টেইলারিং, নির্মাণশ্রম, গ্যারেজ, পরিবহণ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, কৃষি, মাছ, ফল, সবজি, ঘরোয়া উৎপাদন, ছোট পরিষেবা। এই সব ক্ষেত্রেই পরিশ্রম আছে, অভিজ্ঞতা আছে, বেঁচে থাকার জেদ আছে; নেই শুধু সেই রূপান্তর, যা কাজকে বড় করে, আয়কে স্থায়ী এবং বৃহৎ মূলধনে রূপান্তর করে, আর শ্রমকে ব্যবসায়িক শক্তিতে পরিণত করে।
এই জায়গাটাই আমাদের বুঝতে হবে। মুসলিম সমাজে উদ্যোগের বীজ নেই, এ কথা ভুল। বরং উদ্যোগ আছে, কিন্তু সংগঠিত উদ্যোক্তা-সংস্কৃতি নেই। দোকান আছে, কিন্তু ব্র্যান্ড নেই। পণ্য আছে, কিন্তু বাজারচিন্তা নেই। দক্ষতা আছে, কিন্তু ডিজিটাল উপস্থিতি নেই। গ্রাহক আছে, কিন্তু গ্রাহকের তথ্য নেই। কাজ আছে, কিন্তু কাজকে বাড়িয়ে তোলার কৌশল নেই। একজন দর্জি বছরের পর বছর মহল্লার ভরসা হয়ে থাকেন, কিন্তু মহল্লার বাইরে তাঁর কোনো পরিচয় গড়ে ওঠে না। একজন মহিলা অসাধারণ আচার, সেমাই, কেক বা মশলা বানান, কিন্তু তাঁর পণ্য আত্মীয়তার সীমানা পেরোয় না। একজন কুক ভালো বিরিয়ানী বানাতে পারেন, কিন্তু তাঁর বিরিয়ানী এলাকার বাইরে থেকে পাওয়ার উপায় নেই। একজন তরুণ মোবাইল সারাতে পারে, কিন্তু সে এখনও ভাবেনি তার কাজকে হোম-সার্ভিস, অনলাইন বুকিং বা নিয়মিত সাবস্ক্রিপশন মডেলে নিয়ে যাওয়া যায়। অর্থাৎ সমস্যা দক্ষতার অভাবে নয়; সমস্যা দৃষ্টিভঙ্গির সীমাবদ্ধতায়।
এখানেই স্টার্টআপ কালচার জরুরি হয়ে ওঠে। স্টার্টআপ মানে কেবল কাচঘেরা অফিস, মোটা বিনিয়োগ, ইংরেজি প্রেজেন্টেশন বা সফটওয়্যার কোম্পানি নয়। স্টার্টআপ মানে একটি সমস্যাকে চিহ্নিত করে তার কার্যকর, নতুন, এবং টেকসই সমাধান তৈরি করা। একটি গ্রামের কৃষক যদি ন্যায্য দামে বাজার না পান, তাকে সরাসরি শহরের ক্রেতার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ স্টার্টআপ। মুসলিম মহিলাদের হোম-বেইজড পণ্যকে ডিজিটাল বাজারে তোলার ব্যবস্থা স্টার্টআপ।
মাদ্রাসা ও সাধারণ শিক্ষার ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্থানীয় ভাষাভিত্তিক স্কিল-লার্নিং প্ল্যাটফর্ম স্টার্টআপ। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন অর্ডার, প্যাকেজিং ও ডেলিভারি সাপোর্টও স্টার্টআপ। ঘরে বসে সমস্ত পণ্য ও পরিষেবা দেওয়াও স্টার্টআপ।
আমরা যদি একটু বড় পরিসরে দেখি, তা হলে বোঝা যাবে কেন এই কথা এখন আরও জরুরি। আজকের ভারতবর্ষে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ বা এমএসএমই খাতে ৬ কোটিরও বেশি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, এবং এই খাতে ১১ কোটিরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হয় এবং জিডিপির প্রায় ২৮.৭৭% দখল করে আছে। অর্থাৎ বড় শিল্প একমাত্র পথ নয়; ছোট উদ্যোগও অর্থনীতির মেরুদণ্ড হতে পারে। আবার কেন্দ্রের স্টার্টআপ-সংক্রান্ত নীতির ফলে দেশে এক লক্ষেরও বেশি নিবন্ধিত স্টার্টআপ তৈরি হয়েছে। এই প্রবণতা প্রমাণ করে, উদ্যোগের ভাষা বদলেছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই নতুন অর্থনৈতিক জোয়ারে পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম তরুণ-তরুণীরা কোথায়? তারা কি দর্শক হয়ে থাকবে, না অংশগ্রহণকারী হবে?
সমস্যা হচ্ছে, আমাদের সমাজে এখনও “চাকরি”কে নিরাপত্তার একমাত্র প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। এ দৃষ্টিভঙ্গির ঐতিহাসিক কারণ আছে। দীর্ঘদিন প্রান্তিকতায় থাকা মানুষ ঝুঁকি নিতে ভয় পাবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নিরাপত্তার সন্ধান যদি সৃজনশীলতাকে মেরে ফেলে, তবে সমাজ ধীরে ধীরে স্থবির হয়ে যায়। আজ সরকারি চাকরি সীমিত, বেসরকারি চাকরির নিশ্চয়তা কম, আর অনিয়মিত শ্রমবাজারে আয় ভীষণ অনিশ্চিত। ফলে শুধু চাকরির স্বপ্ন দেখানো এখন অনেক ক্ষেত্রে ভ্রান্ত সান্ত্বনা। তার পাশাপাশি কাজ তৈরি করার পথও খুলতে হবে।
এই মানসিক বাঁকটাই সবচেয়ে কঠিন। কারণ স্টার্টআপ কালচার আসলে ব্যবসার আগে সংস্কৃতির প্রশ্ন। পরিবারে সন্তানকে কী শেখানো হচ্ছে? শুধু পরীক্ষায় নম্বর তোলার কৌশল, না কি সমস্যা দেখে সমাধান ভাবার ক্ষমতা? স্কুলে কি কেবল সিলেবাস শেষ হচ্ছে, না কি যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, আর্থিক শৃঙ্খলা, ডিজিটাল দক্ষতা, বাজার সম্পর্কে বোঝাপড়া, এসবও শেখানো হচ্ছে? ব্যর্থতাকে কি অপমান বলে দেখা হচ্ছে, না কি অভিজ্ঞতা বলে? যতদিন না এই প্রশ্নগুলির উত্তর বদলাবে, ততদিন স্টার্টআপ নিয়ে শুধু বক্তৃতা হবে, কিন্তু সংস্কৃতি তৈরি হবে না।
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের ভেতরে এই পরিবর্তনের প্রয়োজন আরও বেশি, কারণ শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের পরিসংখ্যান এখনও আশাব্যঞ্জক নয়। ২০১১ সালের তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে মুসলমানদের সাক্ষরতার হার ছিল প্রায় ৬৯ শতাংশ, যা রাজ্যের সামগ্রিক সাক্ষরতার হার থেকে কম। উচ্চশিক্ষায় টিকে থাকা, সংগঠিত চাকরিক্ষেত্রে প্রবেশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক, এসব ক্ষেত্রেও নানা ঘাটতি রয়েছে। সাচার কমিটি থেকে শুরু করে পরবর্তী বহু সমীক্ষাই দেখিয়েছে, মুসলিম সমাজের বড় অংশ অর্থনৈতিক সুযোগের মূলস্রোতে পর্যাপ্তভাবে যুক্ত হতে পারেনি। এই অবস্থায় শুধু ভর্তুকি, অনুদান বা সহানুভূতির রাজনীতি দিয়ে এগোনো যায় না। দরকার অর্থনৈতিক সক্ষমতা। আর সেই সক্ষমতার সবচেয়ে কার্যকর পথগুলির একটি হল উদ্যোক্তা-সংস্কৃতি।
এখানে নারীদের প্রসঙ্গ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজে বহু নারী ঘরের ভিতরে বসেই উৎপাদনমূলক কাজ করেন, সেলাই, এমব্রয়ডারি, রান্না, শুকনো খাবার, বিউটি কেয়ার, টিউশন, হস্তশিল্প, শিশু পরিচর্যা। কিন্তু এই শ্রমের বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যায়, কারণ তা বাজারের সঙ্গে যুক্ত নয়। একটু সংগঠন, একটু প্রশিক্ষণ, একটু প্রযুক্তি আর কিছু বিশ্বস্ত বাজারসংযোগ পেলে এই ক্ষেত্রেই বিপুল পরিবর্তন সম্ভব। কয়েকজন মহিলা মিলে একটি ক্লাউড কিচেন, অনলাইন পোশাক ব্র্যান্ড, কমিউনিটি বেকারি, টিউশন নেটওয়ার্ক, অথবা মহল্লাভিত্তিক সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পারেন। নারীদের অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের প্রভাব শুধু আয় বাড়ায় না; পরিবারের পুষ্টি, মেয়েদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ আগামী প্রজন্মের আত্মবিশ্বাসও বদলে দেয়।
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজে স্টার্টআপ কালচার গড়ে তোলার কথা বলতে গেলে খাতভিত্তিক সম্ভাবনা বোঝা জরুরি। শুধু প্রযুক্তি নয়, বরং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষেত্রগুলি নিয়ে ভাবতে হবে।
খাদ্য ও খাদ্যপ্রক্রিয়াকরণ একটি বড় ক্ষেত্র। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘরোয়া খাদ্য উৎপাদন, বেকারি, মাংসজাত ও মশলাজাত পণ্য, স্ন্যাকস, কেটারিং, উৎসব-ভিত্তিক খাবার, আচার, মিষ্টি, শুকনো খাবার, অনেক সম্ভাবনা আছে। এগুলিকে স্বাস্থ্যবিধি, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং অনলাইন বিপণনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে বাজার অনেক বড় হতে পারে।
পোশাক, টেইলারিং, বুটিক ও কারুশিল্পের ক্ষেত্রও অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। বহু তরুণ-তরুণী সেলাই জানেন, কিন্তু বাজার জানেন না। অনলাইন অর্ডার, কাস্টম ফিটিং, উৎসব-নির্ভর সংগ্রহ, মুসলিম পোশাকের আধুনিক রূপ, স্কুল ইউনিফর্ম, কর্পোরেট ইউনিফর্ম, বা ডিজিটাল ক্যাটালগভিত্তিক পরিষেবা, এসবের বিস্তর সুযোগ রয়েছে।
শিক্ষা-প্রযুক্তি একটি বিশেষ ক্ষেত্র হতে পারে। বহু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় মানসম্মত টিউশন, ভাষাশিক্ষা, কম্পিউটার শিক্ষা, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার গাইডেন্স, ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং, এবং ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রীর অভাব আছে। স্থানীয় ভাষাভিত্তিক কম খরচের শিক্ষা-সহায়ক প্ল্যাটফর্ম, অফলাইন-অনলাইন মিশ্রিত শিক্ষাকেন্দ্র, মেয়েদের জন্য নিরাপদ লার্নিং সেন্টার, এসব উদ্যোগ দ্রুত প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রেও সুযোগ রয়েছে। সাশ্রয়ী ডায়াগনস্টিক সংগ্রহ, টেলিমেডিসিন সহায়তা, গ্রামীণ কাজ হিসেবে নয়, একটি সম্ভাব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখা। এর মানে নিজের জীবিকার সঙ্গে অন্যের জীবিকার সম্পর্ক তৈরি করা।
পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজের সামনে আজ দুটি পথ খোলা। একদিকে পুরনো অভ্যেস; অপেক্ষা, অভিযোগ, সীমিত সুযোগের জন্য অন্তহীন প্রতিযোগিতা। অন্যদিকে নতুন পথ, দক্ষতাকে সংগঠিত করা, প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা, ছোট উদ্যোগকে বাজারের সঙ্গে যুক্ত করা, তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে ভাবতে শেখানো। প্রথম পথ পরিচিত, কিন্তু ক্লান্তিকর। দ্বিতীয় পথ কঠিন, কিন্তু সম্ভাবনাময়।
এখন সময় এসেছে প্রতিটি পরিবারে অন্তত এই কথাটি উচ্চারণ করার, শুধু চাকরি খুঁজে বেড়ালেই হবে না, কাজ তৈরির কথাও ভাবতে হবে। প্রতিটি মহল্লায় এই প্রশ্ন তোলা দরকার আমাদের এলাকায় কী সমস্যা আছে, যার সমাধান আমরাই করতে পারি? প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই বোধ তৈরি করা দরকার – ডিগ্রি প্রয়োজন, কিন্তু দক্ষতা ও উদ্যোগও সমান প্রয়োজন। আর প্রতিটি সামাজিক সংগঠনের ভাবা উচিত, দানের পাশাপাশি উৎপাদনশীল ক্ষমতা তৈরি করা যায় কীভাবে।
কারণ শেষ পর্যন্ত একটি সমাজকে বাঁচিয়ে রাখে শুধু সহানুভূতি নয়, সক্ষমতা। আর সক্ষমতার সবচেয়ে দৃশ্যমান রূপ হলো, সে সমাজ নিজের কাজ নিজে তৈরি করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের মুসলিম সমাজে স্টার্টআপ কালচার শুরু হওয়া তাই কোনো ফ্যাশন নয়, কোনো বিদেশি ধারণার অনুকরণ নয়; এটি সময়ের দাবি, বাস্তবতার দাবি, ভবিষ্যতের দাবি। যে সমাজ শুধু কাজ খোঁজে, সে টিকে থাকে। কিন্তু যে সমাজ কাজ তৈরি করতে শেখে, সে ইতিহাসে নিজের জায়গা করে নেয়।





