
১
ব্যঞ্জনা ছাড়াই
ব্যঞ্জনা ছাড়াই মেঘ চলে যাচ্ছে
ললিত বর্ষাকাল
বিষণ্ণ প্রহর গুনে গুনে
একা তোমার জানালা চেয়ে আছে
ওপারে যাবার নৌকা কবে ভেসে গেছে
মনে মনে নিজেকে পাঠাই আমি দূরের নিকটে
ব্যঞ্জনা ছাড়াই তুমি আলো জ্বালো
শাঁখ বাজাও
সন্ধ্যা নামে সন্তর্পণে।
২
জল
বিশ্বাসের কুয়ো থেকে জল তুলে আনি
তবু জলে রক্ত মিশে যায়-
কার রক্ত?
সারারাত ভাবি-
কাতর পিপাসা দ্যাখে রক্তময় সব জলাশয়!
৩
সম্মোহনের পাড়া
আলো দিচ্ছে আলোর যুবতীরা
আশ্চর্য আলোয় ভরে যাচ্ছে সম্মোহনের পাড়া।
আলোর ঢেউয়ে ভেসে যাচ্ছে
নতুন আকাঙ্ক্ষারা।
এখানে ঘর বাঁধতে চাইছে উদ্বাস্তু স্বপ্নেরা।
8
রাতের খেলা
ছায়ার বাঁশি বেজে উঠলে পোশাক খোলে রাত
রাতের কাছে শুয়ে থাকি রাতের খাই ভাত
আগুন এসে চেয়ে দ্যাখে, লোভ দেখায়, ডাকে
মাঝে মাঝে পুড়ে যাই, পোড়াই দুই হাত
ও বিশ্বাস, কাকে ছোঁব?
চোখ বেঁধে দাও, বাঁধো তবে চোখ-
খেলা শুরু হোক….
৫
নিরুত্তর
প্রশ্নগুলি নিরুত্তর থেকে যায়-
মানবতার ক্ষয়িষ্ণু দিন অন্ধকার হয়ে আসে
রাস্তা রাস্তা কাটামুণ্ডু গড়ায়
অন্ধ ধর্মের তরবারি পাক খায় হাতে
হাতে রক্ত ছিটকে আসে সন্ধ্যার নিসন্ন ভাতে
বেঁচে থাকাগুলির ঘোর বিবমিষা
হাসপাতাল খোঁজে
আর্তনাদ চিরে চিরে যায় ক্লান্ত স্নায়ুর ভেতরে।
৬
বেড়াল
নিজের ভেতরেই একটা বেড়াল খেলা করে
তার লেজ ধরে টান মারি
তার লোমশশরীরে
হৃদয়ের ধুকপুক শুনি




